রাজ্যসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নয়া সমীকরণের ইঙ্গিত ওড়িশায়। এবার বিজেপির সঙ্গ ছেড়ে কংগ্রেসের পাশে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিল ওড়িশার প্রাক্তন শাসকদল বিজেডি। ফলে পড়শি রাজ্যে যাবতীয় অঙ্ক বদলে যেতে পারে।
১০ রাজ্যের ৩৭ আসনে রাজ্যসভার নির্বাচন। কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আগামী ১৬ মার্চ একযোগে ওই ৩৭ আসনে ভোট হওয়ার কথা। ওই ভোটের পরই বদলে যেতে পারে রাজ্যসভার যাবতীয় অঙ্ক। আর সেই অঙ্কবদলের খেলায় রাজ্যে রাজ্যে তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন সমীকরণ। যে ১০ রাজ্যের ৩৭ আসনে নির্বাচন হচ্ছে সেগুলি হল মহারাষ্ট্র (৭), ওড়িশা (৪), তামিলনাড়ু (৬), পশ্চিমবঙ্গ (৫), অসম (৩), বিহার (৫), ছত্তিশগড় (২), হিমাচল(১), তেলেঙ্গানা (২) ও হরিয়ানা (২)। এর মধ্যে অসমে একটি, তামিলনাড়ুতে দুটি, তেলেঙ্গানায় দুটি, হরিয়ানা এবং হিমাচলের একটি করে আসন জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী কংগ্রেস। হাত শিবির আরও একটি রাজ্যে একটি 'বোনাস' আসনের আশায়। সেটা হল ওড়িশা।
অঙ্কের বিচারে ওড়িশা থেকে রাজ্যসভার আসন জেতার কোনও সম্ভাবনা কংগ্রেসের নেই। কিন্তু হাত শিবির নবীন পট্টনায়েকের সমর্থনে ভোট বৈতরণী পার করার স্বপ্ন দেখেছে। ১৪৭ আসনের ওড়িশা বিধানসভায় বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ৭৯। আরও ৩ নির্দল বিধায়ক বিজেপিকে সমর্থন করছে। ফলে বিজেপির হাতে ৮২ বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। অন্যদিকে বিজেডির বিধায়ক সংখ্যা ৪৮। ওড়িশায় রাজ্যসভায় চার আসন ফাঁকা হয়েছে। এক একজন প্রার্থীকে জেতাতে কমবেশি ৩০-৩২টি প্রথম পছন্দের ভোট প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে বিজেপি অনায়াসে নিজেদের দু'জন প্রার্থীকে জেতাতে পারবে। বিজেডি জেতাতে পারবে একজন প্রার্থীকে। লড়াই চতুর্থ আসনের জন্য। শোনা যাচ্ছে ওই আসনের জন্য প্রার্থী দেবে কংগ্রেসও।
ওড়িশায় কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা ১৪। সঙ্গে সিপিএমের এক বিধায়ক তাদের হাতে রয়েছে। ফলে কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা ১৫। হাত শিবিরের আসা নিজেদের একজন প্রার্থীকে জেতানোর পর বিজেডির হাতে যে অতিরিক্ত ১৬ জন বিধায়ক থাকবেন, তাঁরা কংগ্রেসের দেওয়া প্রার্থীকে সমর্থন করবেন। বিজেডি সুপ্রিমো নবীন পট্টনায়েকের সঙ্গে ইতিমধ্যেই যোগাযোগ করেছেন কংগ্রেসের প্রদেশ সভাপতি ভক্তচরণ দাস। তাঁর দাবি, দরকারে কংগ্রেস দলের কাউকে প্রার্থী না করে কোনও বিশিষ্টকে নির্দল হিসাবে দাঁড় করাবে। নবীন পট্টনায়েক ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সেই মতো ভাবনা চিন্তা শুরু হয়েছে। আসলে বিধানসভা ভোটে হারের পর বিজেপির সঙ্গে নৈকট্য ছেড়ে গেরুয়া বিরোধিতা না করতে পারলে রাজ্য রাজনীতিতে যে টিকে থাকা কঠিন তা ভালোই বুঝেছেন নবীন। সেকারণেই তাঁর অবস্থান বদলের ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।
