শিল্পায়নের লক্ষ্যে এবার সরাসরি জাপান সফরে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। বুধবার টোকিওতে জাপানি বহুজাতিক সংস্থা ‘মিৎসুই অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড’-এর শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন তিনি। লক্ষ্য একটাই— উত্তরপ্রদেশকে দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির মূল কেন্দ্রে পরিণত করা। বৈঠকে নবীকরণযোগ্য শক্তি থেকে সেমিকন্ডাক্টর ও অন্যান্য গুচ্ছ ক্ষেত্রে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
জাপান সফরের প্রথম দিনেই মিৎসুই গোষ্ঠীর ম্যানেজিং অফিসার কাজুকি শিমিজুর সঙ্গে বৈঠকে বসেন যোগী। সেখানে মূলত চারটি প্রধান ক্ষেত্রে লগ্নির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, উত্তরপ্রদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য আদর্শ জমি। বিশেষত সৌরবিদ্যুৎ, বায়ো-এনার্জি এবং গ্রিন হাইড্রোজেনের মতো পরিবেশবান্ধব শক্তি প্রকল্পে জাপানি প্রযুক্তি ও পুঁজি চাইছে লখনউ।
তথ্যপ্রযুক্তি বা আইসিটি ক্ষেত্রেও বড়সড় লগ্নির প্রস্তাব দিয়েছেন যোগী। আইটি পার্ক তৈরি, ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং এবং স্টার্ট-আপ ইকোসিস্টেম নিয়ে মিৎসুইয়ের কর্তাদের সঙ্গে তাঁর বিশদ আলোচনা হয়েছে। তবে বর্তমান বিশ্বের চাহিদার কথা মাথায় রেখে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ নির্মাণ এবং হাইপার-স্কেল ডেটা সেন্টার তৈরির ওপর সবথেকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও ডিজিটাল কানেক্টিভিটি হাব তৈরির ক্ষেত্রে উত্তরপ্রদেশকে জাপানি সংস্থাটি যেন অগ্রাধিকার দেয়, সেই আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
জাপানি লগ্নিকারীদের আশ্বস্ত করে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, "ভারত ও জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে একদম তৃণমূল স্তরে মজবুত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।" তাঁর দাবি, উত্তরপ্রদেশ ভারতের বৃহত্তম উপভোক্তা বাজার। উন্নত এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্ক, ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডোর এবং দ্রুত বাড়তে থাকা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্লাস্টার লগ্নিকারীদের দারুণ সুযোগ এনে দেবে।
রাজ্যের শিল্প-বান্ধব নীতি এবং ‘সিঙ্গল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স’ ব্যবস্থার কথাও মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে সময়মতো প্রকল্পের অনুমোদনের গ্যারান্টি দিচ্ছে তাঁর সরকার। নিরাপদ এবং স্বচ্ছ পরিবেশে বিনিয়োগের জন্য মিৎসুই গোষ্ঠীকে উত্তরপ্রদেশে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যোগী। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, যোগীর এই জাপান সফর উত্তরপ্রদেশের শিল্প মানচিত্রে বড়সড় বদল আনতে পারে।
