মহামারি কোভিড কি ফের থাবা বসাচ্ছে? এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে দেশজুড়ে। অন্ধ্রপ্রদেশে বেড়েই চলেছে আক্রান্তের সংখ্যা। এখনও পর্যন্ত সেরাজ্যে করোনা আক্রান্ত বেড়ে ১৬। ইতিমধ্যেই কোমর্বিডিটি থাকা ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়ে এবার অন্ধ্রপ্রদেশে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্টের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। ৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ওমিক্রন 'আর এফ.৫' ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত করা হয়েছে। করোনা ভাইরাসের ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টেরই বেশ কয়েকটি ধরনের মধ্যে এটি একটি।
অন্ধ্রপ্রদেশ স্বাস্থ্য বিভাগের তরফে ৪ রোগীর করোনা পজিটিভ নমুনা জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফলাফলেই নতুন করে চিন্তা বাড়াচ্ছে গবেষকদের। এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই, রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্য কুমার যাদব জ্যেষ্ঠ স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন। পুনের গবেষণাগার থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে রাজ্যে করোনার পরিস্থিতির অবস্থা নিয়েও আলোচনা করেন তিনি। এবিষয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে অন্ধ্রপ্রদেশের স্বাস্থ্য দপ্তর।
চিকিৎসা শিক্ষা বিভাগের পরিচালক ড. বিষ্ণুবর্ধনের মতে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সার্স-কোভ-২-এর নিয়মিত জিনোমিক নজরদারির অংশ হিসেবে আরএফ.৫ ভ্যারিয়েন্টটির ওপর পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে। সিঙ্গাপুর এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে আরএফ.৫-এ আক্রান্তের সংখ্যা বেশি দেখা গেছে। তবে বর্তমানে প্রাপ্ত বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে এমন কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি যে, ওমিক্রনের অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় আরএফ.৫ অধিক বিপজ্জনক।
ওমিক্রন 'আর এফ. ৫'-এর উপসর্গগুলি কী কী?
ডা. বিষ্ণুবর্ধন জানিয়েছেন যে, এই ভ্যারিয়েন্টের উপসর্গগুলি ওমিক্রনের অন্যান্য উপ-ভ্যারিয়েন্টের মতোই। এর মধ্যে রয়েছে: গলা ব্যথা, কাশি, জ্বর, মাথাব্যথা, নাক দিয়ে জল পড়া বা নাক বন্ধ থাকা, ক্লান্তি, গায়ে ব্যথা।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্য কুমার যাদব জানিয়েছেন যে, অন্ধ্রপ্রদেশে করোনা সংক্রমণের যথেষ্ট উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যের হাসপাতালগুলি পুরোপুরি প্রস্তুত। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলিতেও বিশেষ ওয়ার্ড ও বেড প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি করোনা রোগীদের শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় টেস্টিং কিট ও অন্যান্য পরিকাঠামোর ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
