প্রতিশ্রুতি দিয়েই খালাস। ১০ মাসেও কথা রাখেনি মহারাষ্ট্রের বিজেপি সরকার। তারা যে রাজ্য সরকারি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা এখনও না মেলায় অমিত শাহের দ্বারস্থ হয়েছেন পহেলগাঁও কাণ্ডে নিহত সন্তোষ জগদালের কন্যা আশাবরী জগদালে। তাঁর অভিযোগ, গত ১০ মাস ধরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে গিয়েছেন তিনি। তা সত্ত্বেও বিষয়টি নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করেনি সরকার।
গত বছর ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিদের আক্রমণে ২৬ জন নিহত হন। তাঁদের একজন মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা সন্তোষ। পহেলগাঁওয়ের ঘটনার পরেই মহারাষ্ট্র সরকার ঘোষণা করেছিল, সে রাজ্যের যে ছ'জন পর্যটক নিহত হয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের একজনকে রাজ্য সরকারের চাকরি দেওয়া হবে। আশাবরী জানান, তাঁর বাবাই পরিবারের প্রধান রোজগেরে ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পরে মা ভেঙে পড়েছিলেন। তাঁর পাশে থাকতেই বেসরকারি সংস্থার চাকরি ছেড়ে দেন আশাশ্বরী। এখন সংসার চলছে সঞ্চয়ের টাকায়। সেই টাকাও ফুরিয়ে এসেছে। কিন্তু সরকার এখনও চাকরি দেয়নি।
আশাবরী জানান, চাকরি চাইতে গিয়ে প্রশাসনের আধিকারিকদের ব্যবহার তাঁকে স্তম্ভিত করেছে। তাঁর কথায়, ‘‘প্রশাসনের ব্যবহারে আমি স্তম্ভিত। এক দফতর থেকে অন্য দফতরে ঘুরতে বাধ্য করেছে। রাজনীতিকেরা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সময় কেনেন। কিন্তু এখনও কারও তরফে কিছু জানানো হয়নি। এমনকি, আমার আর আমার মায়ের কেউ খোঁজও নেননি।’’ আশাবরী জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিস এবং উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিণ্ডের দপ্তরের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগ, বিষয়টি দেখা হচ্ছে বলে জানিয়ে সেখান থেকেও তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। আশাবরীর দাবি, তিনি বিষয়টি নিয়ে রাজ্যসভার সাংসদ মেধা কুলকার্নির সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলেন। সাংসদ এ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহকে একটি চিঠিও লিখেছেন।
এ বিষয়ে মহারাষ্ট্রের বিজেপি নেতা তথা মিডিয়া ইন-চার্জ নবনাথ বান জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ফড়ণবিসের সঙ্গে কথা বলবেন। তাঁর কথায়, ‘‘জগদালে-সহ সন্ত্রাস হামলায় নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই বিজেপির অবস্থান। আমি আশ্বাস দিচ্ছি, বিষয়টি নিয়ে ব্যক্তিগত ভাবে মুখ্যমন্ত্রী এবং মহারাষ্ট্রের বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলব।’’
