পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার ঘটনায় এবার সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। আর সেই চার্জশিটে নাম উঠল পাক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবার প্রধান হাফিজ সইদের। হিট লিস্টে থাকা এই সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, সীমান্ত সন্ত্রাসের মতো একাধিক অভিযোগ এনেছে।
সোমবার জম্মুর এনআইএ বিশেষ আদালতে এই সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। যেখানে এনআইএ হাফিজ সইদকে লস্কর-ই-তইবা ও তার প্রক্সি সংগঠন 'দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট' (টিআরএফ)-এর প্রধান এবং পহেলগাঁও হামলার প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এনআইএ-র তরফে হাফিজের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি, ২০২৩ এবং ইউএপিএ-র একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বলা হয়েছে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, পাকিস্তান থেকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়েছেন সন্ত্রাসী সংগঠন লস্করের প্রতিষ্ঠাতা।
এনআইএ-র তরফে হাফিজের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি, ২০২৩ এবং ইউএপিএ-র একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত বছরের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা চালিয়েছিল জঙ্গিরা। সেখানে বৈসরন উপত্যকায় ধর্ম চিহ্নিত করে হত্যা করা হয় ২৬ জনকে। এই ঘটনার পালটা ৭ মে অপারেশন সিঁদুর শুরু করে ভারতের সেনাবাহিনী। পাক অধিকৃত কাশ্মীর ও পাকিস্তানের ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় সেনা। এই অভিযানে খতম হয় শতাধিক কুখ্যাত জঙ্গি। ভারতের হামলার পর যুদ্ধ শুরু হয় দু'দেশের। পাক হামলার জবাবে ভারত গুঁড়িয়ে দেয় পাকিস্তানের ১৪টি সামরিক ঘাঁটি। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে পাকিস্তানের তরফে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয়। ভারতও সেই প্রস্তাব সমর্থন করে। তবে যুদ্ধ থামলেও তদন্তের গতি থামেনি।
এই মামলার তদন্তে নেমে এখনও পর্যন্ত ১,৫৯৭ পৃষ্ঠার চার্জশিট পেশ করেছে এনআইএ। সোমবার এই মামলার সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করা হয় এনআইএ-র তরফে। যেখানে পহেলগাঁও হামলায় পাকিস্তানের ষড়যন্ত্রের বিস্তারিত বিবরণ, সেখানে হাফিজ সইদের ভূমিকা-সহ অন্যান্য খুঁটিনাটি তথ্য প্রমাণ যুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই মামলায় ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রথম চার্জশিট পেশ করেছিল এনআইএ। সেখানে পাক হ্যান্ডেলার সাজিদ জাট, অপারেশন মহাদেবে নিহত তিন সন্ত্রাসী এবং গ্রেপ্তার হওয়া দুই অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করে। একইসঙ্গে লস্কর ও তার শাখা টিআরএফ-এর ভূমিকা, হামলার পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও পরিচালনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
