সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কাঠুয়া-উন্নাও কাণ্ডে যখন উত্তাল গোটা দেশ, তখন স্রেফ টাকার লোভে নিজের মেয়ের ধর্ষকদের সঙ্গে হাত মেলাতে দ্বিধা করলেন না নিগৃহীতার বাবা-মা! অভিযোগ, অভিযুক্তদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বয়ান বদলের জন্য নিগৃহীতাকে চাপ দিচ্ছিলেন তাঁর বাবা-মা-ই। খোদ রাজধানী দিল্লিতে এমন বাবা-মায়ের সন্ধান পেল পুলিশ। সোমবার রাতে মা-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাবা পলাতক। নিগৃহীতা ওই কিশোরীকে পাঠানো হয়েছে হোমে।
[কাঠুয়া গণধর্ষণ: নিজেদের নির্দোষ দাবি করে নার্কো টেস্টের আরজি অভিযুক্তদের]
দিল্লির প্রেমনগরের বাসিন্দা বছর পনেরোর ওই কিশোরী। অভিযোগ, গত বছরের আগস্টে তাকে ধর্ষণ করে এলাকার এক প্রোমোটার ও তার সঙ্গীরা। থানায় অভিযোগ দায়ের করে নিগৃহীতার পরিবার। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারও করে পুলিশ। এখন অবশ্য তারা জামিনে মুক্ত। কিন্তু, মামলাটি এখনও চলছে। যেকোনও সময়ে অভিযুক্তদের ফের গ্রেপ্তার করা হতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, গত ৮ এপ্রিল নিগৃহীতার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযুক্তদের ২ প্রতিনিধি। মোটা টাকা বিনিময়ে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান নিগৃহীতার বাবা-মা। ২০ লক্ষ টাকায় রফা হয়। অগ্রিম বাবদ নিগৃহীতার বাবা-মাকে ৫ লক্ষ টাকা দেয় অভিযুক্তদের প্রতিনিধিরা। অভিযোগ, ধর্ষণের অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য ওই কিশোরীকে চাপ দিচ্ছিলেন তার বাবা-মা। এমনকী, রাজি না হওয়ায় ওই কিশোরীকে রীতিমতো মারধর করে ঘরে আটকে রাখা হয়। বাবা-মায়ের এমনই আচরণে মানসিভাবে ভেঙে পড়ে সে। শেষপর্যন্ত পুলিশের দ্বারস্থ হয় ওই কিশোরী। তার অভিযোগের ভিত্তিতেই মা-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাবা পলাতক।
[এও সম্ভব! জনপ্রিয় পর্ন সাইটে ট্রেন্ডিংয়ে শীর্ষে ‘আসিফা’]
গোটা ঘটনায় হতবাক দিল্লির পুলিশের পদস্থ আধিকারিকরা। ডিসিপি (বহির্বিভাগ)এম এন তিওয়ারি জানিয়েছেন, গত ১০ এপ্রিল বাবা-মা যখন কাজে বেরিয়েছিলেন, তখন বাড়ি থেকে পালিয়ে স্থানীয় থানায় যায় ওই কিশোরী। অভিযুক্তেরা তার বাবা-মা যে পাঁচ লক্ষ টাকা দিয়েছিল, সেই টাকাও সঙ্গে করে এনেছিল সে। মিথ্যা বয়ান দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া ও নাবালিকার সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণের অভিযোগে ওই কিশোরীর বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
[নোট বাতিলের স্মৃতি উসকে এটিএমে বাড়ন্ত নগদ, তীব্র সমালোচনা মমতার]
The post টাকার বিনিময়ে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ প্রত্যাহারে চাপ বাবা-মায়ের appeared first on Sangbad Pratidin.
