shono
Advertisement
Petrol-Diesel Price

যুদ্ধের পরও দেশে বাড়েনি পেট্রল-ডিজেলের দাম, দিনে কত লোকসান হচ্ছে তেল সংস্থাগুলির?

এই লোকসান কতদিন বইতে হবে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে? বা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিই বা এই বোঝা কতদিন বইতে পারবে?
Published By: Subhajit MandalPosted: 05:24 PM Apr 15, 2026Updated: 07:32 PM Apr 15, 2026

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে বাড়ছে তেলের দাম। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতবাসীর হেঁসেলে। ইতিমধ্যেই রান্নার গ্যাসের দাম বাড়াতে হয়েছে। গ্যাসের সংকটও উপেক্ষা করার মতো নয়। তবে পেট্রল-ডিজেলের দামে (Petrol-Diesel Price) এখনও হাত পড়েনি। উলটে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদি সরকার। যার খেসারত দিতে হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলিকে। হিসাব বলছে প্রতিদিন ইন্ডিয়ান ওয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম মিলে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা করে লোকসানের মুখ দেখছে।

Advertisement

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব কার্যত গোটা বিশ্বের জ্বালানির বাজারেই পড়েছে। আর সেটার খেসারত দিতে হচ্ছে আমজনতাকেই। একাধিক প্রথম সারির দেশেও পেট্রল ও ডিজেলের দাম অনেকটা বেড়েছে । ভারতের অধিকাংশ প্রতিবেশী দেশের অবস্থাও তথৈবচ। অন্তত তথ্য সেকথাই বলছে। হিসাব বলছে যুদ্ধ শুরুর পর আমেরিকাতেই পেট্রল-ডিজেলের দাম (Petrol-Diesel Price) বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়ায় এই বৃদ্ধিটা সর্বোচ্চ। সেদেশে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে ৪২ শতাংশ। ফ্রান্স, ইংল্যান্ডের মতো প্রথম সারির দেশে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে যথাক্রমে ১৭ ও ১০ শতাংশ। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ জার্মানিতে এই মূল্যবৃদ্ধি প্রায় ১৭ শতাংশ। ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশ ছাড়া সব দেশই পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়িয়েছে। শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে যেমন প্রায় ৩৩ শতাংশ দাম বেড়েছে। চিনে বেড়েছে প্রায় ২৪ শতাংশ। পাকিস্তানে যুদ্ধের পর বৃদ্ধি ২৫ শতাংশ।

সে তুলনায় ভারতের বাজারে প্রভাব অনেকটাই কম। ভারত সরাসরি ইরান থেকে খুব বেশি তেল আমদানি না করলেও, নিজের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি তেল বাইরে থেকে কিনতে হয়। এই আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। স্বাভাবিকভাবেই তেল আনতে বেশ মোটা অঙ্কের অর্থ খরচ করতে হয় ভারত সরকারকে। পরিস্থিতি এতটাই সঙ্গিন যে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা লোকসানের মুখ দেখতে হচ্ছে ভারতের তিন প্রধান রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাকে। পেট্রলে তেল সংস্থাগুলির লিটার প্রতি লোকসান হচ্ছে ১৮ টাকা। আর ডিজেলে সেটা ৩৫ টাকা। এই মুহূর্তে ভারতে পেট্রল বিকচ্ছে ৯৪-১০৫ টাকা লিটারে যার বর্তমান বাজারে মূল্য হতে পারত অন্তত ১১৩টাকা লিটার। ডিজেলের দাম বাজারে লিটারপ্রতি ৮৭-৯০ টাকা। বর্তমান বাজারে লিটারপ্রতি ডিজেলের দাম হতে পারত অন্তত ১২৩ টাকা। অর্থাৎ লিটারপ্রতি ৩৫ টাকা বেশি।

পেট্রলে তেল সংস্থাগুলির লিটার প্রতি লোকসান হচ্ছে ১৮ টাকা। আর ডিজেলে সেটা ৩৫ টাকা। এই মুহূর্তে ভারতে পেট্রল বিকচ্ছে ৯৪-১০৫ টাকা লিটারে যার বর্তমান বাজারে মূল্য হতে পারত অন্তত ১১৩টাকা লিটার। ডিজেলের দাম বাজারে লিটারপ্রতি ৮৭-৯০ টাকা। বর্তমান বাজারে লিটারপ্রতি ডিজেলের দাম হতে পারত অন্তত ১২৩ টাকা। অর্থাৎ লিটারপ্রতি ৩৫ টাকা বেশি।

প্রশ্ন হচ্ছে, এই লোকসান কতদিন বইতে হবে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে? বা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিই বা এই বোঝা কতদিন বইতে পারবে? শোনা যাচ্ছে, ইরানের সঙ্গে আলোচনার পর ভারত হরমুজ দিয়ে এখন তেল আমদানি করতে পারছে। তবে তাতেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। যার ফলে বাংলা এবং তামিলনাড়ুর ভোটের পর একযোগে পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়লে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement