মালদহ আর আম সমার্থক। গোটা রাজ্যে তো বটেই গোটা দেশেই মালদহের আমের আলাদা পরিচিত ও খ্যাতি আছে। বস্তুত মালদহের অর্থনীতির একটা বড় স্তম্ভ হল আম। তাই মালদহের আমজনতার মাঝে আম নিয়ে একাধিক বড় ঘোষণা করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in Malda)। একই সঙ্গে পাটচাষী, রেশম চাষিদের দুর্দশার কথা উঠে এল মোদির কথায়। গঙ্গার ভাঙন রোধেও একাধিক প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী।
মালদহের সভায় প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi in Malda) ভাষণের একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল চাষিদের কথা। আম নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাফ কথা, "মালদহ জেলা আম এবং আমসত্ত্বের জেলা। অথচ এই জেলায় আম অর্থনীতি নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করেনি তৃণমূল।" মোদির দাবি, বাংলায় ক্ষমতায় এলে মালদহের আম শিল্পকে ১ লক্ষ কোটি টাকার শিল্পক্ষেত্রে পরিণত করবে কেন্দ্রীয় সরকার। এখন কালিয়াচক ও ইংলিশবাজার আমের বাজার। সেটার বিকল্প বাজার তৈরি করবে বিজেপি সরকার। কোল্ড স্টোরেজ আরও বাড়বে, ফুড প্রসেসিং সেক্টরে বিনিয়োগ বাড়বে। আমজনতার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি, "ম্যাঙ্গো ইকোনমিকে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে দেবে বিজেপি সরকার। মালদহের পুরনো গৌরব ফেরাব আমরা।"
শুধু আম নয়, মালদহ ও মুর্শিদাবাদের কৃষকদের জীবনযাত্রার একটা বড় ভিত রেশম ও পাটচাষ। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, রেশম চাষিদের জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে মোদি সরকার। মোদির কথায়," এই তৃণমূলের লোকেরা যখন দিল্লিতে সরকার চালাত তখন পাটের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ছিল ২৪০০ টাকা। আজ সেটা ৫৫০০ টাকা। দ্বিগুণের বেশি হয়ে গিয়েছে। আমাদের সরকার পাটচাষিদের ১৩০০ কোটির বেশি টাকা দিয়েছে।"
মানিকচক, রতুয়ার দীর্ঘদিনের সমস্যা নদী ভাঙন। এদিন প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে সেই ইস্যুও উঠে এল। প্রধানমন্ত্রী বললেন, "আপনাদের কষ্টের কোনও চিন্তা নেই তৃণমূলের। কেন্দ্র টাকা পাঠায় আর তৃণমূল খেয়ে নেয়। তৃণমূল সরকার নির্মম নির্দয়।" প্রধানমন্ত্রী বললেন, "মালদহে গঙ্গা আর ফুলহারের ভাঙনে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়। প্রতিবছর তৃণমূলের সাহায্য চায় মানুষ, কিন্তু তৃণমূল আপনাদের দুর্দশার মধ্যেই রেখে দিয়েছে।"
যদিও মোদির সভা থেকে দেওয়া ওই প্রতিশ্রুতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠছে। কেন্দ্রে ১১ বছর চলছে মোদির সরকার। মালদহ উত্তরে ৬ বছর বিজেপির সাংসদ। জেলায় একাধিক বিধায়ক রয়েছে বিজেপির। তা সত্ত্বেও মালদহের বন্যা পরিস্থিতি বা আম অর্থনীটি নিয়ে কী পদক্ষেপ সরকার করেছে, সে প্রশ্নের উত্তর প্রধানমন্ত্রীর সভায় মেলেনি।
