পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে জ্বালানি সংকটের সিঁদুরে মেঘ ভারতের আকাশে। ভোটপর্ব মেটার পর জ্বালানি তেলের দামবৃদ্ধির জল্পনাও মাথাচাড়া দিতে শুরু করেছে। এহেন পরিস্থিতির মাঝেই দেশবাসীর উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রবিবার হায়দরাবাদে এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মোদি জানালেন, 'জ্বালানি তেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংযত হন। ভারত তার প্রয়োজনের বেশিরভাগ জ্বালানিই বাইরে থেকে আমদানি করে।'
৯,৪০০ কোটি টাকার সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে রবিবার তেলেঙ্গানায় গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানেই জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ''এই মুহূর্তে পেট্রোল-ডিজেল, রান্নার গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের মিতব্যয়ী হওয়া প্রয়োজন। একান্ত প্রয়োজন হলে তবেই আমদানিকৃত পেট্রোলিয়াম পণ্য ব্যবহার করা উচিত দেশবাসীর। এর ফলে আমাদের শুধুমাত্র বৈদেশিক মুদ্রাই সাশ্রয় হবে না, যুদ্ধের জেরে দেশে তৈরি হওয়া নেতিবাচক প্রভাব কমাতেও সাহায্য করবে।'' জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির জল্পনার মাঝেই প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
মোদি বলেন, 'এই মুহূর্তে পেট্রোল-ডিজেল, রান্নার গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের মিতব্যয়ী হওয়া প্রয়োজন। একান্ত প্রয়োজন হলে তবেই আমদানিকৃত পেট্রোলিয়াম পণ্য ব্যবহার করা উচিত দেশবাসীর।'
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের জেরে দেশে জ্বালানি সংকটের উদ্বেগ বেড়েছে। হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত। সরকার এখনও পর্যন্ত পেট্রোল, ডিজেল ও মধ্যবিত্তের রান্নার গ্যাসের দাম না বাড়ালেও রিপোর্ট বলছে এর জেরে তেল সংস্থাগুলির প্রতিদিন প্রায় ১,৬০০-১,৭০০ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। এই অবস্থায় একাধিক সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১৫ মে-র আগে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে চলেছে সরকার। মোদির বার্তা সেই মূল্যবৃদ্ধির আগাম ইঙ্গিত বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞমহল।
উল্লেখ্য, ভোট মিটতেই জ্বালানির দাম বাড়ানো শুরু করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি। প্রথম কোপটা এসেছে বাণিজ্যিক গ্যাসের উপর। ১০০-২০০ টাকা নয়, শুক্রবার একধাক্কায় সিলিন্ডারপিছু ৯৯৩ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম। এখানেই শেষ নয়, দাম বাড়ানো হয়েছে অটোর এলপিজিরও। একধাক্কায় ৬ টাকা ৪৪ পয়সা দাম বেড়েছে অটোর জ্বালানির। আশঙ্কা করা হচ্ছে এবার কোপ পড়তে পারে জ্বালানি তেল ও মধ্যবিত্তের রান্নার গ্যাসের উপর।
