পক্ষাঘাতগ্রস্ত শ্বশুরকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগে এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। শনিবার ঝাড়খণ্ডের রাঁচি শহরে এই খুনের ঘটনাটি ঘটে। রবিবার বিদ্যানগর এলাকা থেকে অভিযুক্ত পুত্রবধূকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নিজের স্ত্রীকে 'সাইকো কিলার' বলে অভিহিত করেন মৃতের ছেলে।
মৃত ব্যক্তির নাম ডা. কে পি গুপ্ত। তিনি রাঁচির একজন বিশিষ্ট হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ছিলেন। কয়েকমাস আগে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন। অভিযোগ, শনিবার দুপুরে বাড়ির অন্য সদস্যরা যখন বাইরে ছিলেন তখন পুত্রবধূ নিকিতা শ্বশুরের উপর চড়াও হন। এরপর বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাঁকে খুন করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় মৃতের স্ত্রী দোকানে ছেলেকে খাবার পৌঁছতে গিয়েছিলেন। সেই সুযোগে শ্বশুরকে খুন করেন নিকিতা। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্ত নিকিতা ও তাঁর শ্বশুরের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক বিষয়ে অশান্তি লেগে থাকত।
মৃতের ছেলে সৌরভ অভিযোগ করেছেন, খুনের পর তাঁর স্ত্রী প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেন। তাঁর দাবি, ঘটনায় ব্যবহৃত রক্তমাখা বালিশ ছাদে লুকিয়ে রেখেছিলেন নিকিতা। পরে তা উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়াও, বাড়িতে লাগানো সিসিটিভি নষ্ট করার চেষ্টাও করেছিলেন অভিযুক্ত।
২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে নিকিতার সঙ্গে সৌরভের বিয়ে হয়। সৌরভ পুলিশকে জানান, বাবার শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখতে তিনি বাড়িতে সিসিটিভি বসান। শনিবার দোকানে বসে তিনি লাইভ ফিডে দেখতে পান, স্ত্রীর সঙ্গে বাবার ব্যাপক বচসা হচ্ছে। এই দৃশ্য দেখে তড়িঘড়ি বাড়িতে ছুটে যান সৌরভ। কিন্তু ততক্ষণে মৃত্যু হয়েছে কে পি গুপ্তার। পুলিশ স্টেশনের বাইরে সংবাদমাধ্যমের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন সৌরভ। স্ত্রীর কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, অত্যন্ত নৃশংসভাবে এই খুন করা হয়েছে। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রাজেন্দ্র ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসে পাঠিয়েছে পুলিশ।
ইতিমধ্যেই ওই বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। সেখানে অভিযুক্তকে ঘরে ঢুকতে ও ঘর থেকে বেরোতে দেখা যাচ্ছে। যদিও খুনের কারণ সম্পর্কে এখনও কিছু নিশ্চিতভাবে জানানো হয়নি।
