ইরান যুদ্ধের ত্রস্ত গোটা পশ্চিম এশিয়া। ইজরায়েল ও আমেরিকার হামলার জবাবে গোটা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান। ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে ওমান এবং কুয়েতেও। এই অবস্থায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক এবং কুয়েতের যুবরাজ সাবাহ আল-খালেদ আল-হামদ আল-মুবারক আল-সাবাহর সঙ্গে ফোনে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
সূত্রের খবর, দুই রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে ফোনালাপে ওই দেশগুলিতে সংঘটিত হামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মোদি। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি কোন অবস্থায় রয়েছে তা নিয়ে পর্যালোচনা করেন তিনি। এছাড়াও কুয়েত ও ওমানে প্রবাসী এবং আটকে পড়া ভারতীয়দের নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে খবর। উল্লেখ্য, এর আগে সৌদি আরব, বাহারিন এবং জর্ডনের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গেও যুদ্ধ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে টেলিফোনে কথা বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, শনিবার ইরানে হামলা হওয়ার পরই ইজরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে বেপরোয়া হামলা শুরু করে তেহরান। দুপুরের পর দুবাইয়ের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। পাম জুমেইরাহ এলাকায় বিস্ফোরণের কথা নিশ্চিত করেছে সে দেশের প্রশাসন। শুধু তা-ই নয়, বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ইমারত বুর্জ খলিফার কাছেও একাধিক বিস্ফোরণ হয়েছে বলে জানা যায়। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে শনিবারই খালি করে দেওয়া হয় বুর্জ খলিফা। রবি ও সোমবারও হামলা থামেনি। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, আবুধাবিতে একটি নৌসেনা ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। হামলা চলেছে রিয়াধে আমেরিকার দূতাবাসেও।
গুরুতর এই পরিস্থিতিতে সোমবার রাতে বাহারিনের রাজা হামাদ বিন ইসা আল খলিফা ও সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে হামলার নিন্দা করে তিনি এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতি নিয়ে সৌদি আরবের যুবরাজ এবং প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ বিন সলমানের সঙ্গে আলোচনা করেছি। ভারত সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে লঙ্ঘন করা সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানিয়েছে। আমরা একমত যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা দ্রুত ফেরানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কঠিন সময়ে ভারতীয়দের সুরক্ষার ব্যবস্থা করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছি তাঁকে।’ পাশাপাশি আরও একটি পোস্টে মোদি লেখেন, ‘ভারত বাহারিনের উপর হামলার নিন্দা করেছে। কঠিন সময়ে দেশটির জনগণের পাশে আছি আমরা। বাহারিনের ভারতীয় সম্প্রদায়ের সুরক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়ায় ধন্য়বাদ জানিয়েছি।’
এর পর সোমবার রাতেই জর্ডানের রাজাকে ফোন করার পর এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘আমি জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লার সঙ্গে কথা বলেছি। ওই অঞ্চলের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। আমরা শান্তি নিরাপত্তা ও জর্ডানবাসীর কল্যাণের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছি। এই কঠিন সময়ে জর্ডানে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লা ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
