শিলান্যাস করেছিলেন তিনিই। উদ্বোধনটাও সারা হল তাঁর হাত ধরেই। মাঝের কয়েক বছরে বদলে গেল উত্তরপ্রদেশের মানচিত্র। মিরাট থেকে প্রয়াগরাজ— দীর্ঘ ৫৯৪ কিলোমিটারের গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে এখন আর নিছক কল্পনা নয়, বাস্তবের পিচঢালা সড়ক। বুধবার হরদোইয়ের পুণ্যভূমিতে দাঁড়িয়ে দেশের বৃহত্তম এই এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই প্রকল্পের হাত ধরেই যোগী আদিত্যনাথের ‘নতুন উত্তরপ্রদেশ’ শিল্প ও সমৃদ্ধির এক নতুন সোপানে পা রাখল।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এদিন স্পষ্ট ভাষায় জানান, তাঁর সরকার যে কাজের শিলান্যাস করে, তার উদ্বোধনও নিশ্চিত করে। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে এই দীর্ঘ পথের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। কোভিড অতিমারির প্রতিকূলতা কাটিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই বিশালাকার পরিকাঠামো এখন জনসাধারনের জন্য উন্মুক্ত। ১২টি জেলার প্রায় ১ লক্ষ কৃষকের স্বতঃস্ফূর্ত জমিদান এই প্রকল্পের মেরুদণ্ড। মুখ্যমন্ত্রী এদিন কৃতজ্ঞচিত্তে সেই কৃষকদের অবদানের কথা স্মরণ করেন। তাঁর মতে, এটি কেবল একটি রাস্তা নয়, বরং কৃষকদের সমৃদ্ধি এবং যুবকদের কর্মসংস্থানের এক নতুন করিডোর।
গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েকে ঘিরে উত্তরপ্রদেশ সরকার সাজিয়েছে বিশাল এক অর্থনৈতিক পরিকল্পনা। সড়কের দুই পাশে ২৭টি জায়গায় গড়ে তোলা হচ্ছে ইন্টিগ্রেটেড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্লাস্টার এবং লজিস্টিক হাব। শিল্পায়নের জন্য ১৮ হাজার একর জমির পাশাপাশি অতিরিক্ত ৭ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগের যেমন ঢল নামবে, তেমনই তৈরি হবে বিপুল কর্মসংস্থান। যোগী আদিত্যনাথের কথায়, ২০১৭ সালের আগের সেই পরিবারতন্ত্র, দাঙ্গা আর মাফিয়া রাজের অন্ধকার কাটিয়ে রাজ্য এখন এক্সপ্রেসওয়ের আলোয় ভাসছে।
দিল্লি-মিরাট র্যাপিড রেল থেকে শুরু করে ইনল্যান্ড ওয়াটারওয়ে কিংবা ডিফেন্স ম্যানুফ্যাকচারিং করিডোর— গত ৯ বছরে উত্তরপ্রদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। প্রায় ৪ লক্ষ কিলোমিটার রাস্তার জাল বোনা হয়েছে রাজ্যে। পর্যটন থেকে কৃষি, আর সংস্কৃতি থেকে শিল্প— গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে সব ক্ষেত্রকেই সুতোয় বাঁধবে বলে দাবি ডবল ইঞ্জিন সরকারের। হরদোইয়ের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বার্তা দিলেন, এই এক্সপ্রেসওয়ে কেবল দূরত্ব কমাবে না, উত্তরপ্রদেশের অর্থনীতিকে পৌঁছে দেবে এক অনন্য উচ্চতায়। প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে সেই জয়যাত্রার সূচনা হল আজ।
