বাংলার নির্বাচন নিয়ে বুথ ফেরত সমীক্ষা বা এক্সিট পোলের (West Bengal Exit Poll 2026) ফলাফল প্রকাশ করবে না বিখ্যাত সমীক্ষক সংস্থা অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া। ২৪ ঘণ্টা টালবাহানার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন সংস্থার শীর্ষকর্তা প্রদীপ গুপ্তা। তিনি বলছেন, বাংলার ক্ষেত্রে যে 'স্যাম্পল সাইজে' তাঁরা সমীক্ষা করতে চাইছিলেন, সেটা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। কারণ বাংলার ৬০-৭০ শতাংশ ভোটার নিজেদের মতামত প্রকাশই করতে চাইছেন না।
এক্সিট পোল নিয়ে উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি। কে জিতবে, কে হারবে তা নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। অধিকাংশ এক্সিট পোলই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে তৃণমূল ও বিজেপির। তবে খানিকটা এগিয়ে গেরুয়া শিবির। আবার দু-একটি এক্সিট পোলে (West Bengal Exit Poll 2026) ইঙ্গিত দিচ্ছে তৃণমূলের প্রত্যাবর্তনেরও। তাৎপর্যপূর্ণভাবে সি ভোটার, টুডে'জ চাণক্য এবং অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার মতো তথাকথিত গ্রহণযোগ্য এবং নামী সমীক্ষক সংস্থা বুধবার নিজেদের সমীক্ষার রিপোর্ট প্রকাশই করেনি। বৃহস্পতিবার কিছু কিছু সংস্থা নিজেদের রিপোর্ট প্রকাশ করবে। কিন্তু অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া নিজেদের সমীক্ষা রিপোর্ট প্রকাশই করবে না।
আসলে বাংলার ক্ষেত্রে এক্সিট পোল কাজটা বরাবরই বেশ কঠিন। এখানকার রাজনীতি সচেতন মানুষ সচরাচর কোনও সমীক্ষক সংস্থাকে সঠিক তথ্য দেন না। তাছাড়া বাংলার মহিলা ভোটাররা নির্বাচনের ফলাফলে নির্ণায়ক ভূমিকা নেন। যে তথ্য অনেক সময় বুথ ফেরত সমীক্ষায় ধরা পড়ে না।
সংস্থার শীর্ষ কর্তা প্রদীপ গুপ্তা বলছেন, "আমরা সচরাচর মানুষের সামনে মুখোমুখি কথা বলে সমীক্ষা করতে চাই। কিন্তু বাংলার ক্ষেত্রে ৬০-৭০ শতাংশ মানুষ নিজেদের মুখ বন্ধ রাখছেন। তাই মাত্র ২০-৩০ শতাংশ মানুষের মতামত নিয়ে আমরা কোনও সংখ্যা বলতে চাই না।" অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার কর্তার বক্তব্য, "এমন কোনও তথ্য আমরা প্রকাশ করতে চাই না। যাতে আমাদের নিজেদেরই আস্থা নেই।" বস্তুত তিনি বকলমে স্বীকার কর নিয়েছেন বাংলার মন বুঝতে তাঁর সংস্থার সমীক্ষকরা ব্যর্থ হয়েছেন।
আসলে বাংলার ক্ষেত্রে এক্সিট পোল কাজটা বরাবরই বেশ কঠিন। এখানকার রাজনীতি সচেতন মানুষ সচরাচর কোনও সমীক্ষক সংস্থাকে সঠিক তথ্য দেন না। তাছাড়া বাংলার মহিলা ভোটাররা নির্বাচনের ফলাফলে নির্ণায়ক ভূমিকা নেন। যে তথ্য অনেক সময় বুথ ফেরত সমীক্ষায় ধরা পড়ে না। সম্ভবত সেকারণেই সেই ২০১৬ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি নির্বাচনে এক্সিট পোলের ফলাফল অন্তত বাংলার ক্ষেত্রে অন্তত মেলেনি। তাই প্রদীপ গুপ্তারা হয়তো সেকারণেই এবার ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। স্বাভাবিকভাবেই অন্য সমীক্ষক সংস্থাগুলির সমীক্ষা এবার আরও বড় প্রশ্নের মুখে পড়ে গেল।
