ভোট দিতে গিয়ে বিকল ইভিএম। দীর্ঘক্ষণ বন্ধ ভোটগ্রহণ। এ খবর যে কোনও নির্বাচনের দিনই আকছার পাওয়া যায়। এ বছর বঙ্গের অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণে যেটুকু সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল সেটাও ওই ইভিএম বিকল হওয়া কেন্দ্রিক। তাছাড়া ইভিএম নিয়ে বিতর্কও বহুদিনের। কিন্তু জানেন কি এই অত্যাধুনিক ভোটযন্ত্র কিনতে কত খরচ হয় নির্বাচন কমিশনের? একেকটি ইভিএমের কাজের মেয়াদই বা কত?
বস্তুত একটি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন মূলত দুটি আলাদা আলাদা অংশে বিভক্ত। একটি ব্যালট ইউনিট অর্থাৎ যেখানে ভোট দেওয়া হয়। আরেকটি কন্ট্রোল ইউনিট। যেটা কিনা পুরো মেশিনকে নিয়ন্ত্রণ করে। এর সঙ্গে ইদানিং আবার যুক্ত হয়েছে ভিভিপ্যাট। শেষবার ২০২৩ সালে ইভিএমের দাম প্রকাশ্যে এসেছিল। নির্বাচন কমিশন সেবার বেশ কিছু ইভিএম ইউনিট কেনে।
২০২৩ সালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ইভিএমের ব্যালট ইউনিটের দাম ৭ হাজার ৯০০ টাকা। ইভিএমের কন্ট্রোল ইউনিটের দাম ৯ হাজার ৮০০ টাকা। এর সঙ্গে আবার যুক্ত হয়েছে ভিভিপ্যাট। যার দাম ১৬ হাজার টাকা। অর্থাৎ একটা গোটা ইভিএম ইউনিটের দাম প্রায় ৩৪ হাজার টাকা। সাধারণত একটি ইভিএমের মেয়াদ ধরা হয় ১৫ বছর। অর্থাৎ একটি ইভিএমে ৩টি নির্বাচনী চক্র সম্পন্ন করা সম্ভব। নির্বাচনী চক্র অর্থাৎ লোকসভা ভোট, বিধানসভা ভোট এবং স্থানীয় নির্বাচন।
গত কয়েক বছর ধরে ভারতীয় নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বিতর্কিত বস্তুটির নাম ইভিএম। যা নিয়ে মাঝে মাঝেই বিতর্ক হয়। কেউ বলেন, ইভিএম কারচুপি হয়েছে। কেউ বলেন, হ্যাক হয়েছে। কেউ বলেন, স্ট্রংরুমে গিয়ে ইভিএমে ভোটের সংখ্যায় হেরফের করে দেওয়া হয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশন যাবতীয় বিতর্কের মধ্যেও বরাবর আস্থা রেখেছে এই ইভিএমেই।
