সংসদে দাঁড়িয়ে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বলেছিলেন 'বঙ্কিমদা'। এবার জন্মতিথিতে ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণপরমহংসদেকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ফের 'ভুল' করে বসলেন প্রধানমন্ত্রী। এক্স পোস্টে রামকৃষ্ণপরমহংসকে তিনি সম্বোধন করলেন 'স্বামী' বলে। যা সচরাচর ব্যবহার করা হয় স্বামী বিবেকানন্দের নামের আগে। প্রধানমন্ত্রীর পোস্টের ওই ভুল সঙ্গে সঙ্গে ধরিয়ে দিল তৃণমূল।
বৃহস্পতিবার ঠাকুর রামকৃষ্ণপরমহংস দেবের জন্মতিথি। এদিন সকালেই প্রধানমন্ত্রীর এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে তাঁকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। বলা হয়, "স্বামী রামকৃষ্ণ পরমহংসজির জন্মজয়ন্তীতে শ্রদ্ধাঞ্জলী। উনি আধ্যাত্ম ও সাধনাকে যেভাবে জীবনীশক্তিতে রূপান্তরিত করেছেন, সেটা বহু যুগ মানবতার কল্যাণে কাজে লাগবে। ওঁর আদর্শ এবং বার্তা আগামী দিনে আমাদের প্রেরণা দেবে।"
ওই সোশাল মিডিয়া পোস্টে বাকি মোটামুটি সব ঠিকই ছিল। শুধু রামকৃষ্ণদেবকে 'স্বামী' হিসাবে সম্বোধন করা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে তৃণমূল। রাজ্যের শাসক দলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ প্রধানমন্ত্রীর পোস্টের স্ক্রিনশট শেয়ার করে বলেছেন, "প্রধানমন্ত্রীর পোস্ট। লিখেছেন স্বামী রামকৃষ্ণ পরমহংস। স্বামী শব্দটি এখানে ব্যবহারের নয়, বিজেপি জানে না। ঠাকুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের শিষ্য ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। প্রধানমন্ত্রী আর বিজেপি বাংলা এবং বাংলার প্রণম্যদের সম্পর্কে জানেন না।" কুণালের দাবি, "ধারাবাহিক ভুল চলছে। অবিলম্বে পোস্ট সংশোধন করুন প্রধানমন্ত্রী। স্বামী শব্দটি সাধারণভাবে বহু সন্ন্যাসীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও রামকৃষ্ণদেবের ক্ষেত্রে 'ঠাকুর' পরিচয়মূলক কথাটি প্রচলিত।"
বস্তুত, মিশন ও মঠের সন্ন্যাসীদের নামের আগে 'স্বামী' সম্বোধন করা হলেও সচরাচর রামকৃষ্ণপরমহংসদেবের নামের আগে 'স্বামী' শব্দটি ব্যবহৃত হয় না। রামকৃষ্ণদেবের ক্ষেত্রে ঠাকুর শব্ধটি সম্বোধন হিসাবে ব্যবহৃত হয়। যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর 'অজ্ঞতা' তুলে ধরেছেন কুণাল। সংসদের বঙ্কিমকাণ্ডের পর রামকৃষ্ণদেবকে স্বামী সম্বোধন, প্রধানমন্ত্রীর 'ভুল' অস্বস্তিতে ফেলবে বঙ্গ বিজেপিকে। আসলে ভোটের মুখে আদ্যপান্ত বাঙালি হওয়ার চেষ্টা করে বারবার মুখ থুবড়ে পড়ছে বিজেপি, এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের।
