প্রযুক্তির দুনিয়ায় নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করতে বড় পদক্ষেপ করল উত্তরপ্রদেশ। সোমবার লখনউতে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে সাক্ষাতের পর এমনই এক ‘ডিজিটাল বিপ্লবের’ বার্তা দিলেন পুচ এআই (Puch AI)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও সিদ্ধার্থ ভাটিয়া। উত্তরপ্রদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট করলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ হতে চলেছে আগামীর উন্নয়নের আসল চালিকাশক্তি।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের নির্যাস একটাই— এআই যেন সাধারণের নাগালের বাইরে না থাকে। সিদ্ধার্থের মতে, যোগী আদিত্যনাথের সরকারের দূরদর্শী চিন্তাভাবনাই রাজ্যে প্রযুক্তির বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত করেছে। তাঁর কথায়, “নেতৃত্বের সংকল্প যদি স্বচ্ছ হয়, তবে সাফল্যের ছবিটা মাটিতে ফুটে উঠতে বাধ্য।” ইউপিআই যেমন ভারতের ডিজিটাল লেনদেনের ভোল বদলে দিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেও ঠিক সেভাবেই জনমানসে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে 'পুচ এআই'।
সংস্থার বিশেষত্ব হল এর সহজলভ্যতা। কোনও অ্যাপ নামানোর ঝক্কি নেই। নেই জটিল প্রোম্পট শেখার প্রয়োজন। স্রেফ একটা ফোন কল কিংবা হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমেই কৃষক থেকে পড়ুয়া— যে কেউ সমস্যার সমাধান পাবেন নিমেষে। পুরোপুরি নিখরচায় এই পরিষেবা সাধারণের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চায় তাঁর টিম। একই সঙ্গে দেশের তথ্য দেশের ভেতরেই সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে কেন্দ্রীয় নীতির ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
সিদ্ধার্থ মনে করেন, এআই নিয়ে অহেতুক ভয়ের কোনও কারণ নেই। এটি কোনওভাবেই কাজ কাড়বে না, উল্টে শিক্ষিত প্রজন্মের জন্য তৈরি করবে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ। ডাভোসের বিশ্ব সম্মেলনে এআই ক্ষেত্রের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেওয়ার আগে লখনউয়ের এই বৈঠককে অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। সব মিলিয়ে, উত্তরপ্রদেশে প্রযুক্তির সঙ্গে সাধারণ মানুষের যে যোগসূত্র তৈরি হতে চলেছে, তা দেশের মানচিত্রে এক নজিরবিহীন উদাহরণ হতে পারে।
