নো বলে বদলে যাচ্ছে ম্যাচের ভাগ্য। বহু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হাতছাড়া হচ্ছে অথচ হেলদোল নেই বোলারদের। টিম ইন্ডিয়ার বোলিং বিভাগের এই মানসিকতায় রীতিমতো ক্ষেপেছেন কিংবদন্তি সুনীল গাভাসকর (Sunil Gavaskar)। তিনি বলছেন, এবার থেকে বোলাররা নো বল করলে জরিমানা করা হোক। নো বলের সংখ্যা বাড়লে জরিমানাও বাড়ানো হবে। ভাগ দিতে হবে বোলিং কোচদেরও।
দেশের মাটিতে ২০১৬ সালের টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের লেন্ডল সিমনস আউট হলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে। পরে দেখা গেল সেটা নো বল। সিমন্স একাই ৮২ রানের ইনিংস খেলে ভারতকে হারিয়ে দিলেন। এক বছর বাদে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল। ফখর জামান আউট হলেন জসপ্রীত বুমরাহর বলে। পরে দেখা গেল সেটাও নো বল। ফখর সেঞ্চুরি করলেন। পাকিস্তান ৩৩৮ রান তুলল। ভারত অপ্রত্যাশিত ভাবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হাতছাড়া করল। এ তো গোল দুটো উদাহরণ। এমন বহু ম্যাচ হাতছারা হয়েছে স্রেফ নো বলের জন্য। সদ্য শ্রীলঙ্কা সিরিজের একের পর এক নো বল করেছেন রবীন্দ্র জাদেজার মতো সিনিয়র বোলার।
সুনীল গাভাসকর মনে করছেন, এই নো বল করার প্রবণতা স্রেফ বোলারদের গা-ছাড়া মনোভাবের জন্য। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে লেখা প্রতিবেধনে গাভাসকর বলছেন, "ক্রিকেটে যে দুটো জিনিস ক্রিকেটারদের হাতে থাকে সেটা হল নো বল না করা আর ব্যাটারদের গার্ড নেওয়া। ক্রিকেটাররা বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলেন, যেটা তাঁদের হাতে রয়েছে সেটা ভালোভাবে করতে চান। তাহলে নো বল কেন হচ্ছে?" নো বল রুখতে টেস্টেও ফ্রি হিট চালুর প্রস্তাবের কথা শোনা যাচ্ছে। গাভাসকর সেসবের পক্ষে নন। তিনি মনে করছেন, টেস্টে ফ্রি হিট দেওয়া মানে ব্যাটারদের আরও সহজে রান করতে দেওয়া। এমনিই ব্যাটাররা অনেক সুবিধা পান।
তাহলে নো বল রুখতে কী করণীয়? গাভাসকর বলছেন, বোলারদের সরাসরি আর্থিকভাবে জরিমানা করা হোক। প্রত্যেক টিম নিজেদের মতো জরিমানা ঠিক করুক। প্রতিটি নো বল করলে সেই জরিমানা দ্বিগুণ হবে। অর্ধেক দিতে হবে বোলিং কোচকে। ম্যাচ শেষে ওই জরিমানার টাকায় সকলে মিলে নৈশভোজ সেরে ফেললেই হল। গাভাসকর মনে করছেন, শুধু নো বল নয়, মাঠের অনেক ছোটখাট ভুলেই এই ধরনের জরিমানার ব্যাবস্থা চালু করা যায়।
