বারবার সংসদের মর্যাদা ও শিষ্টাচার ক্ষুণ্ণ করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। এতদিন এমন অভিযোগ তুলতেন শাসকপক্ষের সাংসদরা। এবার সরকার পক্ষের সমর্থক ২০০ অবসরপ্রাপ্ত আমলা ও প্রাক্তন সামরিক কর্তা এই অভিযোগ আনলেন। এমনকী কংগ্রেস নেতাকে ক্ষমা চাইতে হবে বলেও দাবি জানালেন তাঁরা।
রাহুলের আচরণের সমালোচনা করে ২০০ জনের (প্রাক্তন আমলা ও সামরিক কর্তা) স্বাক্ষর সম্বলিত একটি চিঠি সংসদের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, কংগ্রেসের নেতার নির্দেশেই গত ১২ মার্চ বিরোধী দলের সাংসদরা স্পিকার ওম বিরলার নির্দেশ অমান্য করে সংসদ চত্বরেই বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দেশে রান্নার গ্যাসের সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বেশ কয়েকজন বিরোধী সাংসদ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন সংসদের মকর দ্বারের কাছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন প্রতীকী ইটের উনুন হাতে নিয়ে স্লোগান দেন। এর সমালোচনা করে বিজেপি নেতারা মন্তব্য করেছিলেন, সংসদ কোনও পিকনিক করার জায়গা নয়।
অভিযোগপত্রে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড সংসদীয় শিষ্টাচারকে ক্ষুণ্ণ করে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে। বিশেষ করে যখন বিরোধী দলের নেতা এতে জড়িত থাকেন। জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, সংসদ হল সর্বোচ্চ সাংবিধানিক মঞ্চ। এর মর্যাদা সর্বদা উন্নত রাখতে হবে। অভিযোগপত্রে স্বাক্ষরকারীরা আরও উল্লেখ করেছেন, রাহুল গান্ধী ও অন্যান্য বিরোধী দলের সাংসদদের 'গণতন্ত্রের মন্দির' সংসদের সিঁড়িতে বসে চা-বিস্কুট খেতে দেখা গিয়েছে। এই কাজ সংসদীয় মর্যাদার পরিপন্থী বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ, লোকসভার বিরোধী দলনেতা হওয়ার পরেই বেশি করে উদ্ধত তথা শিষ্টাচারহীন আচরণ করছেন তিনি। তাঁর আচরণ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর বর্ণনা করে স্বাক্ষরকারীরা রাহুল গান্ধীকে দেশের জনতার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে বলেও দাবি করেছেন।
