মহাসমারোহে পালিত হয়েছিল রাম মন্দিরের উদ্বোধন এবং রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বয়ং সেই অনুষ্ঠানের পুরোধা ছিলেন। এবার সেই অনুষ্ঠানই চলে এল সিটের রাডারে। সূত্রের খবর, উত্তরপ্রদেশ সরকারের তৈরি সিট এবার তদন্ত করবে ১২৪ কোটির খরচ নিয়ে। রামমন্দিরের নানা উৎসব-অনুষ্ঠানে খরচ হয়েছিল এই বিপুল অর্থ। এবার এই খরচের হিসাব খতিয়ে দেখবে সিট।
সূত্রের খবর, রাম মন্দিরে গত দু'বছরের আয়-ব্যয়ের রিপোর্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অডিট রিপোর্ট, পেমেন্ট ভাউচার, নানা খরচের বিল-সমস্তই আপাতত সিটের তদন্তের আওতায়। সেখান থেকেই চর্চায় উঠে আসছে তিনটি বড় অনুষ্ঠান। ২০২৪ সালে মন্দিরের উদ্বোধন, ২০২৫ সালের মহাকুম্ভের আয়োজন এবং ধ্বজারোহণ অনুষ্ঠান। উল্লেখ্য, এই তিনটি অনুষ্ঠানেই ছিল প্রধানমন্ত্রীর উজ্জ্বল উপস্থিতি। তবে সবচাইতে বেশি চর্চা চলছে মন্দিরের উদ্বোধন অনুষ্ঠানের খরচ নিয়ে। হিসাব অনুযায়ী, শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট অন্তত ১১৩ কোটি টাকা খরচ করেছিল এই অনুষ্ঠানে।
অন্তত ৮ হাজার অতিথি হাজির ছিলেন রাম মন্দিরের উদ্বোধনে। প্রত্যেক খাতেই কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেছে ট্রাস্ট, এমনটাই খবর সূত্র মারফত। অনুষ্ঠানের জন্য বিজ্ঞাপন বাবদই অন্তত ৫০ কোটি টাকা ঢেলেছে চম্পত রাইয়ের নেতৃত্বাধীন ট্রাস্ট। পুজোর আচারে খরচ হয়েছে এক কোটি টাকারও বেশি অর্থ। এছাড়াও সাজসজ্জা, বিদ্যুৎ বিল, প্রসাদ ইত্যাদির খরচ ছাড়িয়েছিল কোটি টাকার মাত্রা। মন্দিরের ধ্বজারোহণ অনুষ্ঠানেও ১০ কোটি টাকার বেশি খরচ হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
রাম মন্দিরে প্রণামী চুরি বিতর্কে শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা দেশে। এই নিয়ে ইতিমধ্যেই রিপোর্ট জমা দিয়েছে সিট।তাতে বলা হয়, রাম মন্দিরে নগদ প্রণামী জমা পড়েছে ৩,৫০০ কোটি টাকারও বেশি, সঙ্গে অগণিত সোনা-রুপোর গয়না৷ এই ধনরাশির একটা বড় অংশের কোনও হদিশ মিলছে না৷ তদন্তে উঠে এসেছে, গোটা এই অব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্যরাই। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরই এফআইআর দায়ের করা হয়। অভিযোগ দায়ের করেন, ট্রাস্টের সদস্য কৃষ্ণ মোহন। এরপর ৮ অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হতেই পদত্যাগ করেন চম্পত। এবার প্রশ্ন উঠছে তাঁর আমলে মন্দিরের ব্যয় নিয়ে।
