রাম মন্দিরে প্রণামী চুরির ঘটনার জেরে বিতর্কের আবহেই প্রথম বার বৈঠক করল অযোধ্যার ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’। সেখানে পদত্যাগী সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইয়ের ইস্তফা আনুষ্ঠানিক ভাবে গৃহীত হল। সেই সঙ্গে চম্পতের স্থলাভিষিক্ত হলেন বজরং বাগড়া। চম্পতের মতোই বাগড়াও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) নেতা। বর্তমানে তিনি সংগঠনের আন্তর্জাতিক সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন।
অন্য দিকে, রামমন্দির ট্রাস্ট থেকে ইস্তফা দিলেও চম্পত এখনও ভিএইচপির আন্তর্জাতিক সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন। পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বাগড়া রাজস্থানের সীকার জেলার বাসিন্দা। দীর্ঘ চার দশক ধরেই তিনি সঙ্ঘ পরিবারের ঘনিষ্ঠ। তবে ভিএইচপি-র সাংগঠনিক দায়িত্ব গ্রহণের আগে সরকারি আধিকারিক ছিলেন তিনি। তিনি কেন্দ্রীয় খনি মন্ত্রকের অধীনে ‘নবরত্ন’ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ‘ন্যাশনাল অ্যালুমিনিয়াম কোম্পানি লিমিটেড’ (নালকো)-এর চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর (সিএমডি) হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
রামমন্দির ট্রাস্ট থেকে ইস্তফা দিলেও চম্পত এখনও ভিএইচপির আন্তর্জাতিক সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন।
রাম মন্দিরে চুরির ঘটনার বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) রিপোর্ট জমা দেয়। তাতে বলা হয়, রাম মন্দিরে নগদ প্রণামী জমা পড়েছে ৩,৫০০ কোটি টাকারও বেশি, সঙ্গে অগণিত সোনা-রুপোর গয়না৷ এই ধনরাশির একটা বড় অংশের কোনও হদিশ মিলছে না৷ নগদ টাকা এবং গয়নার পাশাপাশি মন্দিরের হেফাজত থেকে গায়েব দানে পাওয়া রুপোর তৈরি ভূষূণ্ডির কাকও৷ তদন্তে উঠে এসেছে, গোটা এই অব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্যরাই। চম্পত রায় ও অনিল মিশ্রের প্রশাসনিক পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও তাঁরা ট্রাস্টের সদস্যপদ হারাচ্ছেন না। ট্রাস্ট ডিড অনুযায়ী, তাঁরা আজীবন ট্রাস্টি হিসেবেই বহাল থাকবেন। শুধুমাত্র সাধারণ সম্পাদক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে তাঁরা অব্যাহতি পাচ্ছেন।
