নোটবন্দির পর থেকেই এদেশে ডিজিটাল লেনদেনে (UPI Payments) বিপ্লব আসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির 'ডিজিটাল ভারত'-এর হাত ধরে। যা কোভিডের সময় থেকেই আরও বড় আকার ধারণ করে। কিন্তু ইউপিআই লেনদেনের ক্ষেত্রে এবার বড় পরিবর্তন করতে চাইছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ইন্ডিয়া। আসলে 'ডিজিটাল প্রতারণা' রুখতেই কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক এমন চিন্তাভাবনা করছে।
কী পরিবর্তন? এই বিষয়ে আরবিআই একটি আলোচনাপত্র প্রকাশ করেছে। যেখানে দেখানো হয়েছে ২০২১ সালে যেখানে ৫৫১ কোটি টাকার অনলাইন জালিয়াতির কথা জানা গিয়েছিল, তা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৯৩১ কোটি টাকায়! আর এই পরিস্থিতিতে অনলাইন জালিয়াতি রুখতে ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে 'ওয়ান আওয়ার ওয়েট' নিয়ে। যদি তা কার্যকর করা হয় সেক্ষেত্রে অনলাইনে অ্যাকাউন্ট টু অ্যাকাউন্ট ১০ হাজার টাকার বেশি আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে একঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। যিনি টাকা পাঠাবেন তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ডেবিট হয়ে গেলেও একঘণ্টা পর্যন্ত সেই অর্থ ব্যাঙ্ক 'হোল্ড' করে রাখবে। এই সময়কালের মধ্যে গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে না। যদি টাকা পাঠানোর পর পর ওই ব্যক্তির মনে হয় তিনি কোনও প্রতারকের পাল্লায় পড়েছেন তাহলে লেনদেনটি বাতিল করার সুযোগ পাবেন। তবে এই নতুন পদ্ধতিটি কেবলমাত্র ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেনের ক্ষেত্রেই কার্যকর হতে পারে। আপাতত কোনও দোকানে দিয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করে কেনাকাটার ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না।
ইউপিআই লেনদেনের ক্ষেত্রে এবার বড় পরিবর্তন করতে চাইছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ইন্ডিয়া। আসলে 'ডিজিটাল প্রতারণা' রুখতেই কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক এমন চিন্তাভাবনা করছে।
আরবিআই এই একঘণ্টাকে 'গোল্ডেন আওয়ার' বলে উল্লেখ করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আদপে ছোট মনে হলেও এই পদ্ধতি সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে জালিয়াতি রুখতে। সাধারণ জালিয়াতরা দ্রুত টাকা হাতানোর চেষ্টা করে। যাতে প্রেরক চিন্তাভাবনার সুযোগ না পান। কিন্তু এক্ষেত্রে যেহেতু সময় বেশি হাতে থাকছে সেক্ষেত্রে ভুল করেও দ্রুত তা শোধরানো যাবে। এমনকী যদি ব্যাঙ্কের মনে হয় কোনও লেনদেন সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক, তাহলে তারাও দ্রুত পদক্ষেপ করতে পারে। ওই একঘণ্টা সময়কাল এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করবে।
