স্বামীর গায়ের রং কালো। যা পছন্দ ছিল না সুন্দরী স্ত্রীর। তাছাড়া পরিবারের চাপে বিয়ে করলেও প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল তরুণীর। শেষ পর্যন্ত প্রেমিকের সঙ্গে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে ভাড়াটে খুনি লাগিয়ে স্বামীকে খুন (Murder) করলেন স্ত্রী! শুরুতে পথের কাঁটা সরিয়ে ডাকাতির গল্প ফেঁদে পুলিশকে বিভ্রান্ত করেছিলেন তরুণী। যদিও শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ে যায় ষড়যন্ত্র।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ৭ এপ্রিল নিজের বাড়িতে খুন হন মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) ধার অঞ্চলের ২৮ বছরের মশলা ব্যবসায়ী পুরোহিত দেবকৃষ্ণ। ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় তাঁকে। তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদে দেবকৃষ্ণর স্ত্রী ২৫ বছরের প্রিয়াঙ্কা দাবি করেন, বাড়িতে ডাকাত পড়েছিল। সাড়ে তিন লক্ষ টাকা নিয়ে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা, তাদের হাতেই খুন হয়েছেন স্বামী। যদিও যুবকের পরিবারের সঙ্গে কথা বলতেই অন্য দিকে মোড় নেয় তদন্ত।
নিহত দেবকৃষ্ণের বোন জ্যোতি জানান, বিয়ের পর থেকে দাদা-বৌদির সম্পর্ক ভালো ছিল না। কথায় কথায় দেবকৃষ্ণকে অপমান করতেন প্রিয়াঙ্কা। গায়ের রং নিয়ে খোটা দিতেন। মাঝেমাঝেই সুন্দরী প্রিয়াঙ্কা বলতেন, "তুমি কালো, আমার যোগ্য নও, অনেকে ভালো ছেলে জুটত আমার।" যা আপাতদৃষ্টিতে পারিবারিক কলহ মনে হলেও, আদতে ভয়াবহ কিছুর পূর্বাভাস ছিল। তদন্তে উঠে আসে রাজগড়ের বাসিন্দা ৩২ বছরের কমলেশ পুরোহিতের নাম। যিনি প্রিয়াঙ্কার প্রেমিক। পুলিশের দাবি, বিয়ের পরেও যার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল তরুণীর।
এক সময় প্রিয়াঙ্কা ও কমলেশ পথের কাঁটা সরানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এর পরেই সুরেন্দ্র ভাটি নামের এক ভাড়াটে খুনির সঙ্গে ১ লক্ষ টাকার চুক্তি হয় যুগলের। দেবকৃষ্ণকে খুনের জন্য ৫০ হাজার টাকা অগ্রিমও দেন তাঁরা। হত্যাকাণ্ডের রাতে পরিকল্পনা মতো বাড়ির দরজা খুলে রাখেন প্রিয়াঙ্কা। ডাকাতির গল্প যাতে সত্যি মনে হয় তার জন্য নগদ টাকার পাশাপাশি বেশ কিছু মূল্যবান গয়না হারিয়ে গিয়েছে বলেও দাবি করেন। আর জানান, ঘটনার সময় তাঁকে ডাকাতরা দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখেছিল।
কিন্তু পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বারবার বয়ান বদলাতে থাকেন প্রিয়াঙ্কা। এতেই ধরা পড়ে যান তিনি। এর পর বাড়িতে তল্লাশি চালাতেই দেখা যায়, খোয়া যাওয়া গয়না ঘরেই রয়েছে। এর সঙ্গে মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড সব কথা বলে দেয়। ধরে পড়ে যান দোসর কমলেশ পুরোহিত। দু'জনকেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উভয়ের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছেন তদন্তকারীরা।
