বিহারে ফের প্রকাশ্যে যাদব পরিবারের ‘গৃহযুদ্ধ’। দাদা তেজস্বী যাদবকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলে কটাক্ষ করলেন বোন রোহিণী আচার্য! পাশাপাশি, তাঁর অভিযোগ, মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করা দলটি (অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় জনতা জনতা দল) এখন অনুপ্রবেশকারী এবং ষড়যন্ত্রকারীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। যদিও তেজস্বীকে সরাসরি ‘অনুপ্রবেশকারী’ না বললেও বিশেষজ্ঞদের মতে, রেহিণীর নিশানায় তাঁর দাদাই।
রবিবার হতে চলেছে আরজেডি-র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা। তাঁর আগে নিজের এক্স হ্যান্ডলে রোহিণী লিখেছেন, ‘যাঁরা প্রকৃত লালুবাদী, নিপীড়িতদের জন্য সংগ্রামী দলের হয়ে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করছেন, যাঁরা লালুপ্রসাদ যাদবের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং আদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান, তাঁরা দলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ীদের প্রশ্ন করুন।’ তেজস্বীকে নিশানা করে তিনি আরও লিখেছেন, ‘জনগণের অধিকারের জন্য লড়াই করা দলটি এখন ফ্যাসিস্ট বিরোধীদের পাঠানো অনুপ্রবেশকারী এবং ষড়যন্ত্রকারীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। লালু যাদবের আদর্শকে ধ্বংস করার জন্য তাঁদের পাঠানো হয়েছে এবং তাঁরা অনেকাংশে সফলও হয়েছেন।’ রোহিণী বলেন, “যাঁরা দলের দায়িত্বে তাঁদের প্রশ্নের সম্মুখিন হতেই হবে। আত্মসমালোচনা করতে হবে। যদি তাঁরা এবিষয়ে চুপ থাকেন, তাহলে প্রমাণিত হবে যে তাঁরাও ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন।”
এক্স হ্যান্ডলে রোহিণী লিখেছেন, ‘যাঁরা প্রকৃত লালুবাদী, নিপীড়িতদের জন্য সংগ্রামী দলের হয়ে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করছেন, যাঁরা লালুপ্রসাদ যাদবের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং আদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান, তাঁরা দলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ীদের প্রশ্ন করুন।’
লালুর পরিবারে ফাটল অনেকদিন আগেই ধরে গিয়েছিল। কয়েক মাস আগে থেকেই রোহিণীর সঙ্গে দল এবং পরিবারের ফাটল চওড়া হচ্ছিল। বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে আরজেডি এবং ইন্ডিয়া জোটের ভরাডুবির পর পাটনার বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন রোহিণী। তারপরই বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তিনি। জানান, তাঁকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে। অভিযোগ, তাঁকে মারতে তাঁর দিকে জুতোও তোলা হয়েছিল। যদিও রোহিণী আলাদা করে কারও নাম নেননি। সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছিলেন, 'আমি আমার আত্মসম্মানের সঙ্গে আপস করিনি। সত্যকে বিসর্জন দিইনি। কেবল এই কারণেই আমাকে অপমান সহ্য করতে হয়েছে। গতকাল বাধ্য হয়ে এক অসহায় মেয়ে তাঁর ক্রন্দনরত বাবা-মা এবং বোনেদের ছেড়ে চলে এসেছে। আমাকে অনাথ করে দেওয়া হয়েছে।' এর পরদিনই লালুর আরও তিন মেয়ে রাজলক্ষ্মী, রাগিনী ও চান্দা সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে পাটনার বাড়ি ছাড়েন।
লালুর পরিবারে ফাটল অনেকদিন আগেই ধরে গিয়েছিল। কয়েক মাস আগে থেকেই রোহিণীর সঙ্গে দল এবং পরিবারের ফাটল চওড়া হচ্ছিল। বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে আরজেডি এবং ইন্ডিয়া জোটের ভরাডুবির পর পাটনার বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন রোহিণী।
উল্লেখ্য, রবিবার হতে চলেছে আরজেডি-র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা। জানা গিয়েছে, তেজস্বীকে দলের কার্যকরী সভাপতি নিযুক্ত করা হতে পারে। শারিরিক অসুস্থতার কারণে আরজেডি শীর্ষপদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন লালু। গত বছরের শেষে নির্বাচন হয় বিহারে। সেখানে কার্যত নিশ্চিহ্ন হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছে যায় আরজেডি। নির্বাচনে পরাজয়ের নেপথ্য়ে দলেরই বেশ কিছু লোকের হাত রয়েছে বলে সন্দেহ উপর মহলের। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও এই বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
