একের পর এক নির্বাচনে হার। অপরিপক্ক সিদ্ধান্তে দলের ভরাডুবি। একগুয়েমির জেরে পরিবারে ভাঙন। অথচ এত কিছু উপেক্ষা করেও ছোট ছেলে তেজস্বী যাদবকে নিজের রাজপাট তুলে দেওয়ার প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করে দিলেন লালুপ্রসাদ যাদব। রবিবার আরজেডির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভায় তেজস্বীকে কার্যকরী সভাপতি হিসাবে ঘোষণা করা হল।
লালুপ্রসাদ যাদব এখনও আরজেডির সর্বভারতীয় সভাপতি। কিন্তু বয়স ও অসুস্থতার জন্য লালু অব্যাহতি চান। এমনতিতে তিনি আরজেডির দৈনন্দিন কার্যকলাপ দেখেন না। সেসব এতদিন বকলমে তেজস্বীই দেখেছিলেন। তবে সেটা বেসরকারিভাবে। এবার সরকারিভাবে তেজস্বীই দলের সর্বেসর্বা হতে চলেছেন। রবিবারের সভায় তাঁকে কার্যকরী সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে। লালুপ্রসাদ যাদব নিজে ছেলের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন। দলের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন তাঁর মা রাবড়ি দেবীও।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে তেজস্বীর নেতৃত্বে একের পর এক ভোটে ভরাডুবি হচ্ছে আরজেডির। ২০২০ বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল হারে। গত বছর বিধানসভায় লালুর দল কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। মাঝে লোকসভাতেও সেই হারের মুখই দেখতে হয়েছে। এসবের মধ্যে দল ও পরিবারের লাগাতার ভাঙনও ধরা পড়ছে। লালুর বড় ছেলে তেজপ্রতাপ ইতিমধ্যেই পরিবার ছেড়েছেন। মেয়েরাও একে একে ভাই তেজস্বী ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের তোপ দেগে পরিবার ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। সেদিক থেকে দেখতে গেলে দল বা পরিবার কোনওটাই সুচারুভাবে চলছে না তেজস্বী যাদবের আমলে। তাও তাঁকেই 'প্রমোশন' দিচ্ছেন লালু।
আসলে লালুর হাতে বিকল্পও নেই। বড় ছেলে তেজপ্রতাপ পরিবার ছাড়া। তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বহু প্রশ্ন আছে। মেয়েদের মধ্যেও তেমন জনপ্রিয় মুখ কেউ নেই। একমাত্র মিসা ভারতীই একটু পরিচিত। তবে দলের মাথা হওয়ার মতো গ্রহণযোগ্য মুখ তিনিও নন। ফলে বাধ্য হয়েই তেজস্বী যাদবকে দলের ভার দিলেন লালু।
