ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের (UNESCO World Heritage) তালিকায় ঢুকে গেল উত্তরপ্রদেশের বারাণসীর অদূরে অবস্থিত প্রাচীন বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ (Sarnath)। এই স্বীকৃতির ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের মর্যাদা আরও সুদৃঢ় হল। সারনাথ সেই স্থান, যেখানে গৌতম বুদ্ধ বোধিলাভের পর প্রথমবার তাঁর পাঁচ শিষ্যকে ধর্মাদেশ দেন। বৌদ্ধ ধর্মে 'ধর্মচক্র প্রবর্তন' নামে পরিচিত।
দক্ষিণ কোরিয়ায় ইউনেস্কোর একটি কমিটির বৈঠকে শনিবার এশিয়া, আমেরিকা এবং আফ্রিকার বেশ কয়েকটি স্থান বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় যুক্ত হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে জর্জিয়ার ওকেফেনোকি জলাভূমি, থাইল্যান্ডের ত্রয়োদশ শতাব্দীর একটি বৌদ্ধ মন্দির, ভারতের সারনাথ, দক্ষিণ কোরিয়ার জোয়ার-ভাটার সমভূমি, চিনের চিনামাটির শিল্প এলাকা এবং কমোরোসের ঐতিহাসিক শহরগুলি।
বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন জনবসতিপূর্ণ নগরী বারাণসীতে অবস্থিত সারনাথের প্রত্নতাত্ত্বিক ও স্থাপত্য নিদর্শনগুলোই এই বিশ্ব ঐতিহ্য সম্পদের অন্তর্ভুক্তির অন্যতম কারণ। বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী, খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে বোধিলাভের পর গৌতম বুদ্ধ সারনাথে এসে তাঁর প্রথম পাঁচ শিষ্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং সেখানেই প্রথম ধর্মবাণী দেন।
সারনাথ ভারতের ৪৫ তম ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসাবে স্বীকৃতি পেল। সারনাথের ওই স্বীকৃতিতে উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোশাল মিডিয়ায় দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বললেন, 'প্রত্যেক ভারতবাসীর জন্য এটি একটি গর্বের মুহূর্ত! উত্তরপ্রদেশের সারনাথ ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ভগবান বুদ্ধের সঙ্গে সারনাথের গভীর সম্পর্ক রয়েছে; তাঁর প্রজ্ঞা, করুণা ও সম্প্রীতির কালজয়ী বার্তা সমগ্র বিশ্বকে অনুপ্রাণিত করে। এই স্বীকৃতি ভারতের সুগভীর সভ্যতা ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরে। এটি বিশ্বজুড়ে আরও বেশি মানুষকে সারনাথে আসতে এবং ভগবান বুদ্ধের আদর্শের সঙ্গে সংযুক্ত হতে অনুপ্রাণিত করবে।"
