সোমনাথ রায়, নয়াদিল্লি: রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট সংখ্যক মাসিক লেনদেনের পর এটিএম গ্রাহকদের প্রত্যেক লেনদেনে যে চার্জ দিতে হয়, তার ফলে গত পাঁচ অর্থবর্ষে দু’ হাজার কোটি টাকারও বেশি আয় হয়েছে স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার।

২০২১ সালের জুন মাসে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নির্দেশিকা অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যাঙ্কের এটিএম কার্ড গ্রাহকরা নিজেদের ব্যাঙ্কের এটিএম কার্ড প্রতি মাসে সর্বোচ্চ পাঁচবার বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারেন। অন্য ব্যাঙ্কের এটিএম-এ মেট্রো শহরগুলিতে সর্বোচ্চ তিনবার, নন-মেট্রো শহরগুলিতে সর্বোচ্চ পাঁচবার বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায় এটিএম কার্ড। এর পর প্রতিবার ব্যবহারের জন্য দিতে হয় অতিরিক্ত চার্জ। গ্রাহকদের সুবিধার্থে এই চার্জের সর্বোচ্চ সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কর ছাড়া প্রতি ব্যবহারে সর্বোচ্চ ২১ টাকা করে চার্জ করতে পারে ব্যাঙ্কগুলি।
গ্রাহকদের থেকে এই অতিরিক্ত চার্জ নিতে গিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির গত পাঁচ অর্থবর্ষে কত টাকা আয় হয়েছে? সোমবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের কাছে সেই প্রশ্ন করেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মালা রায়। জবাবে মন্ত্রক যে তথ্য দিয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে ২০১৯-২০ অর্থবর্ষ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষ পর্যন্ত এই খাতে দেশের সর্ববৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক এসবিআইয়ের আয় হয়েছে দু’ হাজার ৪৩ কোটি টাকা। নতুন নিয়ম চালু হওয়ার পর প্রথম অর্থবর্ষে সবথেকে বেশি (৬৫৬ কোটি টাকা) গাঁটের কড়ি খসেছে সাধারণ ভারতীয়দের। পরবর্তীতে এই সমস্যা বুঝে হিসাব কষে কার্ড ব্যবহার করে কমানো গিয়েছে এই চার্জ। এই খাতে এসবিআই-এর সবথেকে কম (২২৮ কোটি টাকা) আয় হয়েছে কোভিডের সময়, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে। গত পাঁচ অর্থবর্ষে এসবিআই ছাড়া পিএনবি (৯০.৩৩ কোটি টাকা) ও কানাড়া ব্যাঙ্ক (৩১.৪২ কোটি টাকা) আয় করেছে।
বাকি ব্যাঙ্কগুলির অবশ্য আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হয়েছে। গ্রাহক যখন অন্য ব্যাঙ্কের এটিএম ব্যবহার করেন, তখন সেই ব্যাঙ্ককে চার্জ দিতে হয় গ্রাহকের ব্যাঙ্ককে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসবিআই ছাড়া অন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির সব জায়গায় এটিএম না থাকার কারণেই বেসরকারি ব্যাঙ্কের এটিএম ব্যবহার করেন অনেকে। সেই কারণেই এই ব্যয়।