ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড়সড় হুঙ্কার। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভারতের অর্থনীতিতে ধস। সোমবার বাজার খুলতেই ১৫০০ পয়েন্ট পড়ে গেল সেনসেক্স। পাশাপাশি টাকার দামেও সর্বকালীন রেকর্ড পতন। মার্কিন ডলারের সাপেক্ষে ৯৩.৮৩তে নেমে গিয়েছে টাকার দাম। শুক্রবারের তুলনায় ১২ পয়সা কমে গিয়েছে ভারতীয় অর্থের মূল্য। উল্লেখ্য, রবিবারই ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, ইরানের শক্তিসম্পদের উপর হামলা করবেন। পালটা ইরান হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধং দেহি পরিস্থিতিতেই হু হু করে নিম্নমুখী ভারতের বাজার।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চালাচ্ছে আমেরিকা এবং ইজরায়েল। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ভারতও। টাকার দাম পড়ছে হুহু করে। সেনসেক্স এবং নিফটিও নিম্নমুখী। গত ৪ মার্চ প্রথমবার মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ধাক্কায় টাকার দাম ৭০ পয়সা বেড়ে ৯২-এর গণ্ডি ছাপিয়ে যায়। মাত্র পাঁচদিনের মধ্যে আবারও পতনের নিরিখে নতুন নজির গড়ে ভারতীয় টাকা। ডলারের মূল্য প্রথমবার ৯৩ টাকার গণ্ডি পেরিয়ে যায় শুক্রবার, সর্বকালীন রেকর্ড গড়ে। এবার সেই রেকর্ডও প্রায় ভাঙার পথে ভারতীয় মুদ্রা। সোমবার রেকর্ড পতনের পর ডলারের নিরিখে টাকার মূল্য আপাতত ৯৩.৮৩।
সোমবার বাজার খুলতেই সমস্ত ভারতীয় শেয়ারের সূচক হু হু করে কমে যায়। বেশ কিছু সংস্থার শেয়ারের মূল্য ২ শতাংশেরও বেশি পড়ে যায়। সবমিলিয়ে ১৫২০.৬০ পয়েন্ট পতন হয় সেনসেক্সের সূচকে। ৪০০ পয়েন্টেরও বেশি পতন নিফটি'তে। বিশ্লেষকদের মতে, দালাল স্ট্রিটে রক্তক্ষরণের প্রধান কারণ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ। প্রায় চার সপ্তাহ ধরে চলছে যুদ্ধ। কবে এই সংঘাত থামবে, জানা নেই। দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ থামানোর ইঙ্গিতও নেই। ফলে ভারতীয় বাজারের দুর্দশাও পাল্লা দিয়ে চলতে থাকবে। এহেন পরিস্থিতিতে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের কপালে বাড়ছে চিন্তার ভাঁজ।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে ট্রাম্পের হুঙ্কারে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারি, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী না খুলল ইরানের পাওয়ার প্ল্যান্টগুলির উপর হামলা হবে। পালটা ইরান জানিয়েছে, ট্রাম্প যদি হামলা করেন তাহলে হরমুজ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ভারতের প্রয়োজনের ৫০ শতাংশ শক্তিসম্পদ আমদানি হয় হরমুজ থেকেই।
