এসআইআর (SIR in Bengal) মামলায় সুপ্রিম কোর্টে বড় জয় তৃণমূলের। শীর্ষ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, শুনানিতে নথি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড। বিএলএ-দের হিয়ারিংয়ে প্রবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছে। এ প্রসঙ্গে এদিন সুপ্রিম কোর্ট জানায়, শুনানিতে হাজিরা দেওয়ার সময় ভোটাররা চাইলে যে কোনও একজনকে সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেন। তিনি যদি বিএলএ হন, তাতেও আপত্তির কিছু নেই। অর্থাৎ এবার শুনানিতে থাকার অনুমতি পেলেন বিএলএরা।
শীর্ষ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, শুনানিতে নথি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড।
২০২৫ সালের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে রাজ্যে শুরু হয়েছে এসআইআর প্রক্রিয়া। ২০০২ সালের ভোটার তালিকা অনুযায়ী কাজ হচ্ছে। কারণ, সেবছরই শেষ ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনের কাজ হয়েছিল। ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে বাংলা-সহ ১২ রাজ্যে ফের সেই কাজ করছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ২০০২-এর ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে নিয়ম অনুযায়ী, এসআইআর শুনানিতে গিয়ে নিজের যথাযথ নথিপত্র দিয়ে নাম তোলার আবেদন জানাতে পারবেন ভোটাররা। এছাড়া যে কোনও অসংগতি বা ভুল সংশোধনের জন্যও নথি জমা দিতে হবে নির্বাচন কমিশনে।
ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য নির্দিষ্ট ১৩ টি নথির উল্লেখ করেছিল কমিশন। জানা গিয়েছিল, তার মধ্যে ছিল না মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড। কিন্তু এই নথি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য – এই যুক্তিতে নাগরিকত্বের জন্যও তা গ্রহণ করার আবেদন জানানো হয়েছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে। নানা স্তরে সেই আবেদন উঠেছিল। মনে করা হচ্ছিল, এই নথিটি গ্রাহ্য হবে। ফলে শুনানিতে ডাক পাওয়া ভোটারদের কাছ থেকে মাধ্যমিক বা দশম শ্রেণির ফাইনাল পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণ করেছেন বিএলও। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে নোটিস পাঠিয়ে জানানো হয়েছে, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড নথি হিসেবে গণ্য হবে না। ফলে বহু মানুষ নতুন করে হয়রানির আশঙ্কা করেন।
ঘটনার জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। এদিন শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়েছে, মাধ্যমিকের অ্যাডমিটকে এসআইআরে নথি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি বিএলএদের হিয়ারিংয়ে উপস্থিত থাকার অনুমতিও দিয়েছে শীর্ষ আদালত। বলাই বাহুল্য, এটা তৃণমূলের বড় জয়।
