দেশ-বিদেশের নানা প্রান্ত থেকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বিতর্কিত জামিন আর্জি নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগের সঙ্গেই সুর মেলালেন ভারতের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, দিল্লি হিংসায় অভিযুক্ত হয়ে কার্যত বিনা বিচারেই পাঁচ বছর জেলে কাটিয়ে ফেলেছেন উমর খালিদ। জয়পুর সাহিত্য উৎসবে সাংবাদিক বীর সাংভির সঙ্গে আলাপচারিতায় প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড় উমরের দীর্ঘ কারাবাস নিয়ে নিজের অস্বস্তির কথা স্বীকার করেন।
সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ তুলে ধরে তিনি যুক্তি দেন, বিরাট কোনও ব্যতিক্রম না থাকলে জামিন পাওয়া সাংবিধানিক অধিকার হিসাবেই বলবৎ থাকা উচিত। তিনি বলেন, "সত্যিই জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে ঘটনা জড়িত কি না এবং দীর্ঘস্থায়ী কারাবাস প্রয়োজনীয় কি না, খতিয়ে দেখার দায়িত্ব আদালতের। অন্যথায় বছরের পর বছর ধরে দোষী সাব্যস্ত না হয়েই কেউ কারাদণ্ড ভোগ করলে তা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।" প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড় আরও বলেন, "আমি যে নীতিগুলি উল্লেখ করেছি, তার প্রতিটিই এই সত্যের দিকে ইঙ্গিত করে যে, জামিনের অপব্যবহার যাতে না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য আপনি শর্ত আরোপ করতে পারেন। কিন্তু জামিন পাওয়ার অধিকার অস্বীকার করতে পারেন না।"
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার ঘটনায় বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (ইউএপিএ) মামলায় অভিযুক্ত উমর খালিদ এবং শারজিল ইমামের জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। অন্যদিকে, একই মামলায় অভিযুক্ত বাকি পাঁচজন, গুলফিশা ফাতিমা, মীরান হায়দার, শিফা-উর-রেহমান, মহম্মদ শাকিল খান এবং শাদাব আহমেদকে জামিন দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
