ঘরছাড়া কাশ্মীরি পণ্ডিতরা ঘরে ফিরতে চাইলে তাঁদের স্বাগত। ভূস্বর্গে বসবাসের ন্যায্য অধিকার রয়েছে তাঁদের। যদিও আমার মনে হয় না যে তাঁরা কাশ্মীরের স্থায়ী বাসিন্দা হতে চাইবেন। সোমবার এমনই মন্তব্য করলেন জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ন্যাশনাল কনফারেন্সের বর্ষীয়ান নেতা ফারুক আবদুল্লা (Farooq Abdullah)।
এনসিপি নেতা সংশয় প্রকাশ করে জানান, ঘরছাড়া কশ্মীরি পণ্ডিতরা বর্তমান দেশের অন্য কোনও প্রান্তের স্থায়ী বাসিন্দা। সেখানে তাঁদের সন্তানদের পড়াশোনা, চাকরি ইত্যাদি রয়েছে। ফলে নতুন করে সেখানকার পাট চুকিয়ে কাশ্মীরে ফেরা হয়তো সম্ভব নয়। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ১৯ জানুয়ারিতে এই মন্তব্য করলেন ফারুক আবদুল্লা। এই দিনটিকে 'হলোকাস্ট দিবস' হিসাবে পালন করে থাকে কাশ্মীরে পণ্ডিত সম্প্রদায়। ১৯৯০ সালে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিদের হামলা তথা গণহত্যার পর রাতারাতি ঘর ছাড়ার বেদনাদায়ক ঘটনার স্মরণে এই দিবসটিকে পালন করা হয়।
সোমবার দলীয় অনুষ্ঠান শেষে সংবাদিকদের ফারুক বলেন, বহু কাশ্মীর পণ্ডিত উপত্যকায় এখনও আছেন। শান্তিপূর্ণ ভাবে বসবাস করেন। তিনি বলেন, "তাঁরা (যাঁরা বর্তমানে কাশ্মীরের বাইরে রয়েছেন) কখন আসবেন কাশ্মীরে? কে তাঁদের বাধা দিচ্ছে? কেউ তাঁদের বাধা দিচ্ছে না। তাঁদের ফিরে আসাই উচিত, কারণ এটাই তাঁদের বাড়ি। অনেক কাশ্মীরি পণ্ডিত বর্তমানে উপত্যকায় বাস করছেন। তাঁরা গ্রাম ছেড়ে যাননি।"
যদিও বিষয়টি সহজে মেটার নয়। রবিবার সন্ধে নাগাদ 'ইয়ুথ ৪ পানুন কাশ্মীর'-এর ব্যানারে শত শত কাশ্মীরি পণ্ডিত জগতি ক্যাম্পের কাছে জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় মহাসড়ক অবরোধ করে। নিরাপদে 'ঘরে' ফেরার জন্য কাশ্মীরেই পৃথক ভূখণ্ডের দাবি জানান তাঁরা। পাশাপাশি ১৯৯০ সালের গণহত্যার ঘটনার সরকারি স্বীকৃতি জন্য সংসদে একটি বিল পাসেরও দাবি জানাচ্ছেন তাঁরা।
