রাজ্যে এসআইআর মামলায় বড়সড় নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সময়মতো কাজ শেষ করে ২৮ ফেব্রুয়ারি যাতে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা যায়, তার জন্য দরকারে ভিনরাজ্যের আধিকারিক নিয়োগ করা হোক। এমনই নির্দেশ শীর্ষ আদালতের। এ প্রসঙ্গে ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা থেকে জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগের পরামর্শ বিচারপতিদের। তাঁদের তত্বাবধানে নথি পরীক্ষার কাজ চলবে। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের এই নির্দেশ নিয়ে আপত্তি তোলেন রাজ্যের তরফে আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সওয়াল, ভিনরাজ্যের অফিসাররা বাংলা বুঝতে পারবেন না, কাজে সমস্যা হবে। তাতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের দাবি, একসময়ে পশ্চিমবাংলা-সহ গোটা অঞ্চলে বাঙালি সংস্কৃতি চলত। সেখানকার মানুষজন বাংলায় সাবলীল। তাই কাজে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
সময়মতো কাজ শেষ করে ২৮ ফেব্রুয়ারি যাতে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা যায়, তার জন্য দরকারে ভিনরাজ্যের আধিকারিক নিয়োগ করা হোক। এমনই নির্দেশ শীর্ষ আদালতের। এ প্রসঙ্গে ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা থেকে জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগের পরামর্শ বিচারপতিদের। তাঁদের তত্বাবধানে নথি পরীক্ষার কাজ চলবে।
ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ শেষে আগামী ২৮ তারিখ রাজ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। কিন্তু তা বাস্তবায়িত করার পথে বাধা অনেক। এখন বহু নথি পরীক্ষার কাজ বাকি। হাতে সময় মাত্র তিনদিন। এর মধ্যে ৭০ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নথি যাচাই কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমস্যার সমাধানে জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু তারপরও সুরাহা তেমন হয়নি। এই কাজে নির্বাচন কমিশনকে সাহায্য করার মতো অফিসারের সংখ্যাও কম। জট কাটাতে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে।
এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার জরুরি ভিত্তিতে রাজ্যের এসআইআর মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে উঠল শুনানির জন্য। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়। পরিস্থিতি বিচার বিবেচনা করে বিচারপতিরা পরামর্শ দেন, এসআইআরের কাজ সময়মতো শেষ করতে দরকারে ঝাড়খণ্ড, ওড়িশার হাই কোর্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেখানকার জুডিশিয়াল অফিসারদের নিয়োগ করা হোক। তাতে ভাষাসমস্যা নিয়ে সওয়াল করেন তৃণমূল সাংসদ, বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
আপত্তি তোলেন রাজ্যের তরফে আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সওয়াল, ভিনরাজ্যের অফিসাররা বাংলা বুঝতে পারবেন না, কাজে সমস্যা হবে। তাতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের দাবি, একসময়ে পশ্চিমবাংলা-সহ গোটা অঞ্চলে বাঙালি সংস্কৃতি চলত। সেখানকার মানুষজন বাংলায় সাবলীল। তাই কাজে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
কিন্তু তাঁর যুক্তি খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তাঁর বক্তব্য, “কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি আমাদের কাছে রিপোর্ট পাঠিয়ে জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত লোকের অভাব রয়েছে। প্রতিদিন ২৫০টি করে নিষ্পত্তি করলেও, সব কাজ শেষ করতে ৮০ দিন সময় লাগবে। অথচ হাতে সময় মাত্র তিনদিন। তাই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের পাশাপাশি ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড থেকে বিচারকদেরও এই কাজে শামিল করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।” কাদের নিয়োগ করা যেতে পারে, তাও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির পাশাপাশি তিন বছর বা তার বেশি সময়ের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সিভিল জজ পদমর্যাদার অফিসারদেরও শামিল করা যেতে পারে এই কাজে।
চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, ২৮ ফেব্রুয়ারিই তা প্রকাশ করতে হবে। পরবর্তীতে নতুন নাম সংযোজনের জন্য নিয়মিত সাপ্লিমেন্টারি তালিকা দিতে হবে।
