পুণের কেল্লায় হত্যাকাণ্ডে (Pune Murder Case) নয়া মোড়। কেতন অগরওয়ালের সঙ্গে বাগদান হওয়ার পরে গোপনে বিয়ে করেন সিয়া গোয়েল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী। দু’জনের হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথন ঘেঁটে জানা গিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের চার মাসে আগে বিয়ে করেন সিয়া ও চেতন। তদন্তকারীরা মনে করছেন, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় পুণের ব্যবসায়ীপুত্র কেতনকে হত্যা মামলা আরও শক্ত জমিতে দাঁড়াল।
গত বছরের নভেম্বর মাসে কেতনের সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয় সিয়ার। এরপর গত ১৮ জুন ঘটে অনভিপ্রেত কাণ্ড। পুণের লোহাগড় কেল্লা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় কেতনের। অভিযোগ ওঠে, সিয়া ও চেতন পরিকল্পনা করে তাঁকে খাদে ধাক্কা মেরে ফেলে খুনে করেছে। ঘটনার তদন্ত নেমে পুলিশ জানায়, কেতনকে বিয়ে করবেন না বলেই তাঁকে খুনের পরিকল্পনা করেন সিয়া।
তদন্তে নেমে পুলিশ দুই অভিযুক্তের সমস্ত ডিজিটাল রেকর্ড খতিয়ে দেখেন। তখনই নজরে আসে সিয়া ও চেতনের হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথন। যা থেকে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, চার মাস আগে দু’জনে বিয়ে করেন। কেতনের পরিবার এই বিয়ে সম্পর্কে জানতে পারেনি। বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টের শংসাপত্রের খোঁজ করছে পুলিশ। সূত্রের খবর, সিয়ার দুই বন্ধু সাক্ষী হিসাবে স্বাক্ষর করেছিলেন। বিয়ের পর ইনস্টাগ্রামে গলায় মালা পরা ছবিও পোস্ট করেছিলেন সিয়া। পরে যা মুছে দেওয়া হয়। পুলিশ সেই ছবি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে।
প্রসঙ্গত, পুণে হত্যাকাণ্ডের দুই অভিযুক্তকে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে ১৪ দিনের জন্য। জানা গিয়েছে, এই সময়ই পুলিশ সিয়াকে নিজের বাড়িতে নিয়ে এলে বেরনোর সময় বাইরে জমায়েত সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশে মধ্যমা দেখান তিনি। যা প্রচলিত একটি অশ্লীল ভঙ্গিমা। ১৭ সেকেন্ডের ভাইরাল ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে, পুলিশের সঙ্গে নিজের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসছেন সিয়া। তদন্তের জন্য তাঁকে সেখানে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। সিয়ার পরনে ছিল কালো টি-শার্ট। মুখ ঢাকা ছিল ওড়নায়। চিত্রসাংবাদিকরা তাঁর ছবি তোলার চেষ্টা করছেন দেখতে পেয়েই তাঁদের মধ্যমা দেখান সিয়া।
