বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের। ওই দুর্ঘটনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে প্রশ্ন তুললেন শিবসেনা (উদ্ধব শিবির) নেতা সঞ্জয় রাউত। অজিতের বিমান কীভাবে দুর্ঘটনাগ্রস্ত হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তদন্তের দাবি করেছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই পথে হেঁটে ‘ষড়যন্ত্র’ হতে পারে বলে মনে করছে কংগ্রেস শিবিরও।
গত বুধবার মুম্বই থেকে বারামতি যাওয়ার পথে বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রীর। ছোট বিমান ‘লিয়ারজেট ৪৫ এক্সআর’-এ ওই দুর্ঘটনা ঘটে। বিমান সংস্থা ভিএসআর ভেঞ্চারসের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বিমানটিতে নিরাপত্তাজনিত সমস্যা ছিল না। যথেষ্ট অভিজ্ঞতা সম্পন্ন দুই পাইলটও ছিলেন। তবে দুর্ঘটনার কারণ কী? উল্লেখ্য, দুর্ঘটনার আগে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল এনসিপি-র দুই গোষ্ঠী এক হয়ে যেতে পারে। এতে অস্বস্তি বাড়ত বিজেপির। এই গুঞ্জনের মাঝেই বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় অজিতের। শিবসেনা (উদ্ধব) সাংসদ সঞ্জয় বলেন, “অজিত পওয়ারের দুর্ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত। তাঁর নিজের দলেও এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা উচিত। কিছু তো সন্দেহজনক রয়েছে। পর্দার আড়ালে নিশ্চয়ই কিছু একটা হয়েছে।”
এনসিপির দুই শিবিরের জোটবদ্ধ হওয়ার বিষয়টিই তুলে ধরেছেন শিবসেনা নেতা। তিনি বলেন, অজিত পওয়ার ঘরে ফেরার (এনসিপি-র দুই গোষ্ঠীর পুনর্মিলন) তোড়জোড় করছিলেন। কিন্তু বিজেপি বলছিল, তাদের কাছে সেচ দপ্তরের ফাইল রয়েছে। এর পরেই এই রহস্যজনক দু্ঘটনা ঘটল।" তিনি আরও বলেন, "অজিত কিছু দিন আগেই বলছিলেন, তাঁর কাছে কয়েক জন বিজেপি নেতার বিষয়ে ফাইল রয়েছে। তার পরেই দুর্ঘটনা।" এর পর রাখঢাক উড়িয়ে সঞ্জয় বলেন, "প্রথম দিন থেকেই আমার সন্দেহজনক ঠেকছে। আমি সংসদে বিষয়টি তুলব।”
গত বুধবার মুম্বই থেকে বারামতি যাওয়ার পথে বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রীর।
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এনসিপি নেতার আকস্মিক দুর্ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি বলেন, ”সমাজমাধ্যমে একটি সূত্রে জানতে পেরেছিলাম, বিরোধী কোনও নেতা বলেছিলেন বিজেপি ছাড়তে চেয়েছিলেন অজিত পওয়ার। সেই পরিস্থিতিতে এই দুর্ঘটনা খুবই সন্দেহজনক” ফলে সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে প্রকৃত তদন্তের দাবি জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্ষেত্রে অন্য কোনও এজেন্সির তদন্তে যে তাঁর ভরসা নেই তাও এদিন স্পষ্ট করে দেন।
সঞ্জয় রাউতের মতোই মহারাষ্ট্রের কংগ্রেস নেতা বিজয় ওয়াদেত্তরও অজিতের বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, “অজিত দাদার আচমকা মৃত্যু কোনও ষড়যন্ত্র হলেও হতে পারে। এই বিষয়টি তদন্ত করে দেখা দরকার। এনসিপি-র দুই গোষ্ঠীকে আবার এক হয়ে যাওয়া আটকাতেই এই ষড়যন্ত্র করা হল কি? সেই কারণেই কি তড়িঘড়ি উপমুখ্যমন্ত্রী বেছে নেওয়া হল?” যদিও অজিতের কাকা তথা বিরোধী জোটের অন্যতম প্রবীণ নেতা শরদ পওয়ারের দাবি, এটি নিছক দুর্ঘটনা। অজিতের মৃত্যুর সঙ্গে রাজনীতিকে না জড়ানোর অনুরোধ করেছেন তিনি।
