যুদ্ধবিধ্বস্ত ইটালির ছোট শহরে মেয়েবেলা কেটেছে। সেখান থেকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের ক্ষমতার অলিন্দে। 'ইটালিয়ান বধূ' থেকে পরোক্ষে গোটা দেশের ক্ষমতার নিয়ন্ত্রক। কোন ম্যাজিকে এতটা সফল সোনিয়া গান্ধী? কোন মন্ত্রবলে কংগ্রেসের মতো ঐতিহাসিক দলের রাশ প্রায় দু'দশক নিজের দখলে রাখলেন? কংগ্রেসে সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সনের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আগ্রহের অন্ত নেই। সেসব জানার সুযোগ সোনিয়া গান্ধী নিজেই দেবেন। শীঘ্রই প্রকাশিত হতে চলেছে সোনিয়ার স্মৃতিকথা।
আগামী ১০ নভেম্বরে আমেরিকায় প্রকাশিত হতে চলেছে সোনিয়ার স্মৃতিকথা, ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লভ’। পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস প্রকাশনা সংস্থার তরফে আলফ্রেড এ. নফ বইটি প্রকাশ করবে। ভারতে বই প্কাশের দিনক্ষণ অবশ্য এখনও ঘোষণা করা হয়নি। বইয়ে লন্ডনের কেমব্রিজে রাজীব গান্ধীর সঙ্গে তাঁর আলাপ, প্রেম, বিয়ে থেকে শুরু করে ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধীর হত্যা, ভারতীয় রাজনীতিতে তাঁর প্রবেশ, ২০০৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার মতো বিষয়গুলি রয়েছে। বইটিতে নেহরু-গান্ধী পরিবারের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনের নানা অজানা অধ্যায় উঠে আসবে বলে প্রকাশকের তরফে জানানো হয়েছে।
ইটালির ছোট শহরে কাটানো শৈশব, কেমব্রিজে রাজীব গান্ধীর সঙ্গে পরিচয় ও প্রেম, এবং ভারতের রাজনৈতিক পরিবারে প্রবেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। ১৯৮৪ সালে শাশুড়ি ইন্দিরা গান্ধীর হত্যাকাণ্ড এবং ১৯৯১ সালে স্বামী রাজীব গান্ধীর হত্যার পর কীভাবে তিনি রাজনীতির কেন্দ্রে চলে আসেন, সেই বেদনাদায়ক অধ্যায়ও বইটিতে স্থান পেয়েছে। তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারের সর্বোচ্চ পয়েন্ট অর্থাৎ ২০০৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ কেন হাতছাড়া করলেন- সেটাও বিস্তারিত ওই বইয়ে লেখা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকাশকরা।
ওই বই সম্পর্ক সোনিয়া বলছেন, "হৃদয়ভঙ্গ এবং ব্যক্তিগত ক্ষতি, এসবের মধ্যেই আমাকে রাজনীতিতে ঠেলে দেওয়া হয়। তবে এতদিন পর্যন্ত আমি আমার ব্যক্তিগত জীবনকে আমি আড়ালে রেখেছি। এই বইটা লেখা সহজ কাজ ছিল না। এই বই লেখার অর্থ যে সব রহস্য আমি এতদিন মননের গভীরে লুকিয়ে রেখেছিলাম, সেটাকে প্রকাশ্যে আনা।" প্রকাশনা সংস্থা পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউসের তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত ১ লক্ষ বই ছাপা হবে। সেই সঙ্গে প্রকাশ করা হবে বইটির অডিও সংস্করণ।
