অবশেষে নেপাল কি পারবে রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে স্থিতিশীল হতে! নাকি ফের নতুন কোনও অশান্তি আবাহনে পা বাড়াতে চলেছে! আর এই নির্বাচন (Nepal Election) ঘিরে এমনই কৌতূহল উদ্দীপক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন 'চিকেনস নেক' তথা 'শিলিগুড়ি করিডর' এলাকায়। কেন এমন প্রশ্ন উঠবে না? ১৯৯০ সালে রাজতন্ত্রের অবসানের পর থেকে নেপাল অস্থির। ৩২ বার সরকার গঠন হয়েছে গৌতম বুদ্ধের দেশে। কিন্তু অস্থিরতা প্রশমিত হয়নি। শান্তি ফেরেনি। এবারও যে স্থিতিশীল সরকার গঠন হবে সেই সম্ভাবনাও কম! তবে এবারের নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি কিছুটা ভালো ফল করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কেপি শর্মা ওলির নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছিল দেশের নতুন প্রজন্ম জেন জি। কিন্তু এবারের নির্বাচনে স্থিতিশীল সরকার গঠনে সেই জেন জি-র প্রভাব কতটা থাকবে সেটা নিয়েও বিশেষজ্ঞ মহল যথেষ্ট সন্দিহান। যদিও ভারতের নিরাপত্তার প্রয়োজনেই অত্যন্ত জরুরি প্রতিবেশী দেশে স্থিতিশীল সরকার গঠন। যেমনটা কিছুদিন আগে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরেছে। এর আগে কেপি শর্মা ওলির নেতৃত্বাধীন নেপালের কমিউনিস্ট পার্টি (ইউনাইটেড মার্কসবাদী-লেনিনবাদী বা ইউএমএল)-এর অতি চিন ঘনিষ্ঠতা ভারতের মাথাব্যথার কারণ হয়েছিল।
এবারের নির্বাচনে কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কাঠমান্ডুর প্রাক্তন মেয়র বলেন্দ্র শাহ নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি। ২০২২ সালের সাধারণ নির্বাচনে চতুর্থ স্থান অধিকার করেছিল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি। জেন জি আন্দোলনকে সমর্থন করে পেশায় গায়ক বলেন্দ্র শাহ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। স্বভাবতই এবারের নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি বেশ ভালো ফলাফল করতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। যদিও বলেন্দ্র শাহ ভারত-বিরোধী বলেই পরিচিত। তাকে দলের তরফে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির বিরুদ্ধে। তিনি ঝাপা–৫ আসনে লড়ছেন। সেটা ওলির গড় হিসেবে বেশি পরিচিত। ওই আসনে ১৯৯১ সাল থেকে এক টানা জয়ী হয়েছেন কে পি শর্মা ওলি।
অন্যদিকে রয়েছে গগন থাপা নেতৃত্বাধীন নেপালি কংগ্রেস এবং প্রাক্তন মাওবাদী নেতা তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহাল ওরফে 'প্রচণ্ড'-র নেতৃত্বাধীন নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)। বলে রাখা প্রয়োজন, নেপালে ১ কোটি ৮৯ লাখের মতো ভোটদাতা রয়েছেন। সংসদে মোট আসন সংখ্যা ২৭৫। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে সব মিলিয়ে ১০ হাজার ৯৬৭টি বুথ আছে।
