আমেরিকা-ইজরায়েলের হানায় ইরানে বইছে রক্তগঙ্গা। মৃত্যু হয়েছে সর্বোচ্চ শাসক আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের। প্রতিবাদে আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কট করার কথা ভাবছে ইরান। কিন্তু সেই বয়কট নিয়ে এতটুকু ভাবিত নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ইরান বিশ্বকাপ খেলল কিনা তাতে তাঁর বা আমেরিকার কিছুই এসে যায় না। একই সঙ্গে ইরানকে তোপ দেগেছেন তিনি।
১১ জুন থেকে শুরু ফুটবল বিশ্বকাপ। কিন্তু মেগা টুর্নামেন্টের মাসচারেক আগেই যুদ্ধের আগুনে জ্বলছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য। আমেরিকা এবং ইজরায়েল আক্রমণ শানিয়েছে ইরানের উপর। তেহরানের পালটা মার আছড়ে পড়ছে পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশের উপর। টানা পাঁচদিন ধরে চলছে যুদ্ধ। এহেন পরিস্থিতিতে জানা গিয়েছে, আমেরিকা, মেক্সিকো এবং কানাডায় আয়োজিত আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে ইরান। আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেদেশের ফুটবল সংস্থা, এমনটাই সূত্রের খবর।
কিন্তু যোগ্যতা অর্জনের পরেও ইরান বিশ্বকাপ খেলবে না, এই বিষয়টি নিয়ে একটুও বিচলিত নন আয়োজক দেশের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তাঁর স্পষ্ট মন্তব্য, "ওরা খেলতে এল কিনা, সেটা নিয়ে সত্যিই আমাদের কিছু যায় আসে না।" মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, যুদ্ধে ইরানের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গিয়েছে। তারা যদি বিশ্বকাপ খেলতে আসে তাহলেও একই দশা হবে। ট্রাম্পের কথায়, "আমার মনে হয় ইরান খুব বিশ্রীভাবে হেরে যাওয়া একটা দেশ। ওরা এখন আগুনের উপর দিয়ে চলছে।"
উল্লেখ্য, গত শনিবার গভীর রাতে আমেরিকা-ইজরায়েলের হামলায় খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরই ইরান ফুটবল সংস্থার এক কর্তা বলেন, আমেরিকায় গিয়ে তাঁরা বিশ্বকাপ খেলবেন কি না সেটা নিয়ে চিন্তা করা প্রয়োজন। মার্কিন আক্রমণের জেরেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে ওই কর্তার মত। তবে বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি ইরান। মহিলাদের এশিয়ান কাপে ইরান অংশ নিয়েছে, ম্যাচও খেলছে। তবে প্রশ্ন রয়েছে, ইরানের ফুটবলারদের মার্কিন ভিসা আদৌ দেওয়া হবে কিনা। সবমিলিয়ে রাজনীতি হাঁড়িকাঠে ফুটবল যদি বলি হয়, অবাক হওয়ার নেই।
