পাঞ্জাবের (Punjab) তারন তারান জেলার একটি আইন কলেজে ভয়ংকর হত্যাকাণ্ড। ক্লাসরুমের মধ্যে এক তরুণীকে গুলি করে খুন করলেন সহপাঠী তরুণ। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান গুলিবিদ্ধ ওই তরুণী। তাঁকে হত্যার পর নিজের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি চালান তরুণ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রেমের সম্পর্ক থেকেই কি হত্যাকাণ্ড? তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, নৌশেরা পান্নুনের বাসিন্দা মৃতা সন্দীপ কৌর। অভিযুক্ত প্রিন্স রাজ জলন্ধরের মাল্লিয়ান গ্রামের বাসিন্দা। ওই তরুণ আইন কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। কলেজের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, সোমবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে ক্লাসরুমে প্রবেশ করছেন প্রিন্স। তিনি সন্দীপের পাশ দিয়ে হেঁটে যান। ছাত্রীটি তাঁর উদ্দেশে কোনও মন্তব্য করেন। যদিও প্রিন্স কোনও জবাব দেননি বলেই সিসিটিভি দেখে মনে করা হচ্ছে। এক সময় সন্দীপ নামে ছাত্রীটি ঘর থেকে বেরিয়ে যান। তখন প্রিন্স এবং আরও এক সহপাঠিনী মেয়েটির পিছু পিছু যান। সম্ভবত দু'জনের গোলমাল মেটাতে।
আরও একটি ভিডিও সামনে এসেছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, তৃতীয় তরুণী হাসতে হাসতে ক্লাসঘরে ঢুকছেন। সঙ্গী প্রিন্স এবং সন্দীপ। দুই তরুণী ক্লাসঘরের পিছনের দিকে একটি বেঞ্চে গিয়ে বসেন। তাঁদের ঠিক সামনের বেঞ্চ বসেন ছাত্রটি। হঠাৎই রাজ উঠে ঘুরে দাঁড়ান। তখনই সন্দীপও উঠে দাঁড়ান। যুবক ব্যাগ থেকে বন্দুক বের করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে সন্দীপের মাথায় গুলি করেন। সঙ্গে সঙ্গে মেজেতে লুটিয়ে পড়েন রক্তাক্ত সন্দীপ। এর পর তিন পা পিছনে হেঁটে নিজের মাথায় গুলি করেন প্রিন্স। গোটা ঘটনা দেখে তৃতীয় সহপাঠী ভয় কাঁপতে থাকেন। তিনি ক্লাস থেকে ছুটে বেরিয়ে অন্যদের ডেকে আনেন।
পুলিশের বক্তব্য, তাদের কাছে এখনও স্পষ্ট নয়, রাজ কেন সন্দীপকে খুন করল। তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে হত্যার ধরণ দেখে উভয়ের প্রেমের মধ্যে সম্পর্ক থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রিন্সের বিরুদ্ধে হত্যার মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
