shono
Advertisement
Supreme Court

'নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ প্যানেল থেকে কেন বাদ প্রধান বিচারপতি?' প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের

'প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্বাস করছেন না?' নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটি নিয়ে মামলায় সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল কেন্দ্রের।
Published By: Kishore GhoshPosted: 11:58 AM Jul 31, 2026Updated: 12:14 PM Jul 31, 2026

নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত প্যানেলে দেশের প্রধান বিচারপতিকে রাখা হয়নি কেন্দ্রের নতুন আইনে। নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলে এর বিরুদ্ধে মামলা উঠেছে সুপ্রিম কোর্টে। মামলার শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সর্বোচ্চ আদালত জানতে চাইল--- কেন মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ প্যানেল থেকে বাদ দেওয়া হল দেশের প্রধান বিচারপতিকে?

Advertisement

কেন্দ্রের নতুন আইনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্য নির্বাচন কমিশনারদের বাছাই করতে পারে যে তিন সদস্যের প্যানেল, তার সদস্য প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং প্রধানমন্ত্রীর দ্বারা মনোনীত এক জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। বিরোধী দলগুলি গোড়া থেকেই এই আইনের বিরোধিতা করে জানায়, প্যানেলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য কেন্দ্রের প্রতিনিধি হওয়ায় বাছাই প্রক্রিয়াটি একমাত্রিক হয়ে পড়বে, নিরপেক্ষ কোনও সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে না। উল্লেখ্য, এই প্যানেলে অতীতে প্রধানমন্ত্রী দ্বারা মনোনীত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বদলে ছিলেন দেশের প্রধান বিচারপতি।

কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আদালত জানতে চেয়েছে, যখন সিবিআই প্রধান, লোকপাল নির্বাচনের দায়িত্বে থাকতে পারেন দেশের প্রধান বিচারপতি, তবে গণতন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তাঁকে বাদ দেওয়ার যুক্তি কী? শুনানিতে কেন্দ্রের পক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য--- নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংখ্যাগত সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকার কারণে প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীরা "অসৎ উদ্দেশ্যে" এবং "গণতন্ত্রের" পরিপন্থী কোনও কাজ করবেন, এমনটা ধরে নেওয়া ভুল হবে।

পালটা সলিসিটার জেনারেলকে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবিশ্বাসের নয়।

সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা নৈতিকতার কথা বলেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর পদের সঙ্গে একটি বিশেষ মর্যাদা বা পবিত্রতা জড়িত রয়েছে। ফলে বাছাই কমিটির সিদ্ধান্তের ওপর সন্দেহ প্রকাশ করা হলে তা নির্বাচিত গণতান্ত্রিক কাঠামোর প্রতি অর্পিত সাংবিধানিক আস্থাকে ক্ষুন্ন করবে। সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা দাবি করেন, সংবিধানের ১৪৫(৩) অনুচ্ছেদের আওতায় বিষয়টি একটি বৃহত্তর বেঞ্চের কাছে পাঠানো উচিত।

পালটা সলিসিটার জেনারেলকে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবিশ্বাসের নয়। "আমরা প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রাখতে চাইছি। কিন্তু বিগত বছরগুলোতে এমনটা ঘটেনি। এই বিষয়ে আমি এখানেই থামছি। তবে, এখন হিসাবটা ২:১— দু'জন প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে এবং একজন বিরোধী দলের পক্ষে।" এখানেই না থেমে বিচারপতি দত্ত আরও বলেন, "একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তিরই নির্বাচন কমিশনার হওয়ার কথা। কমিটির কি নিরপেক্ষতার কোনও বহিঃপ্রকাশ থাকা উচিত নয়? আমরা বলছি না যে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হচ্ছে না, তবে তা দৃশ্যমান হতে হবে।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement