শিল্পপতি অনিল আম্বানি এবং তাঁর সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যাঙ্ক প্রতারণা মামলার তদন্ত এত ধীর গতিতে কেন এগোচ্ছে? প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট। এই মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি-সিবিআইকে শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের বেঞ্চের নির্দেশ, তদন্ত যাতে নিরপেক্ষ হয় এবং তা দ্রুত শেষ করতে হবে। চার মাসের মধ্যে নতুন স্টেটাস রিপোর্ট জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দুই তদন্তকারী সংস্থাকে।
ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক অনিল ও তাঁর বিভিন্ন সংস্থার অ্যাকাউন্টকে প্রতারক বলে ঘোষণা করেছে। যা নিয়ে মামলাও চলছে বিভিন্ন আদলতে। এই বিষয়টি নিয়েই সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সচিব ই এ এস শর্মা। বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া ঋণের টাকা অন্যত্র সরানোর অভিযোগ উঠেছে অনিলের ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর বিভিন্ন সংস্থা এবং তার কর্ণধার স্বয়ং অনিলের বিরুদ্ধেও। এর ভিত্তিতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।
দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় গত মাসের শুনানিতে ইডি-সিবিআইয়ের কাছে তদন্তের গতিপ্রকৃতি জানতে চেয়েছিল শীর্ষ আদালত। বুধবারের শুনানিতে সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি। তা দেখে উষ্মা প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চ। তাদের বক্তব্য, "তদন্তে দেরি হচ্ছে কেন? এর কোনও যুক্তিগ্রাহ্য ব্যাখ্যা নেই।" অনিলের সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্তে ইডিকে একটি সিট গঠন করারও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতিরা।
আদালতে জনস্বার্থ মামলাকারীর আইনজীবীর আশঙ্কা, তদন্তে বিলম্বের সুযোগ নিয়ে দেশ ছেড়ে পালাতে পারেন অনিল। যদিও শিল্পপতির সংস্থার আইনজীবী মুকুল রোহতগি আশ্বস্ত করে জানান, অনিল ভারতেই থাকবেন। আদালতের অনুমতি না নিয়ে তিনি ভারতের বাইরে যাবেন না।
