আধার কার্ড শুধুই পরিচয়পত্র হিসাবে ব্যবহার করা যায়। অন্য কোনও কাজে নয়। পরিচয়পত্র ব্যতীত অন্য কোনও কাজে আধারের ব্যবহার অনুচিত। অপব্যবহার হচ্ছে আধার কার্ডের। সেই অপব্যবহার রুখতে সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা দায়ের করেছেন আইনজীবী অশ্বিনীকুমার উপাধ্যায়। যার প্রেক্ষিতে কেন্দ্র ও রাজ্যগুলিকে নোটিস দিল সর্বোচ্চ আদালত।
পরিচয় পত্র হিসাবে আধার কার্ড ব্যবহার করা যাবে, অন্য কোনও কাজে এর ব্যবহার করা যাবে না। আইনজীবী অশ্বিনীকুমার উপাধ্যায়ের দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ কেন্দ্র ও সব রাজ্য সরকার এবং UIDAI-কে নোটিস দিয়েছে। আধার নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির অবস্থান কী, জানতে চেয়েছে শীর্ষ আদালত।
মামলাকারীর দাবি, আধার কার্ডকে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না। আধারের বিজ্ঞপ্তিতে সেটা সাফ লেখা থাকলেও সরকার তা মানছে না। গত কয়েক বছরে বয়সের প্রমাণপত্র, নাগরিকত্ব এবং স্কুলের ভর্তির ক্ষেত্রেও আধারকে ব্যবহার করা হচ্ছে যা অনুচিত। এমনকী ভোটার রেজিস্ট্রেশনে ফর্ম ৬ পূরণ করতে জন্মতারিখের প্রমাণ হিসাবেও এর ব্যবহার করা হয়েছে। যার বিরোধিতা করে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। তার প্রেক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, পরিচয়পত্র ছাড়া অন্য কোনওভাবেই আধার কার্ডের ব্যবহার করা যায় না।
আধার কার্ডের ব্যবহার ঠিক কী, এ নিয়ে জনমানসে একাধিক বিভ্রান্তি রয়েছে। অতীতে শীর্ষ আদালত সাফ বলে দিয়েছে, আধার শুধুই পরিচয়পত্র। কোনওভাবেই সেটাকে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসাবে ব্যবহার করা হবে না। তা সত্ত্বেও দেখা যায়, বিভিন্ন সরকারি কাজে আধার কার্ডকে নাগরিকত্বের প্রামাণ্য নথি হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকী আধার কার্ডকে প্রমাণ হিসাবে ব্যবহার করে অন্য নথিও তৈরি হচ্ছে। যার সুবিধা অতীতে বাংলার মতো সীমান্তবর্তী রাজ্যে পেয়েছে অনুপ্রবেশকারীরা। এমনটাই দাবি করা হয়েছে মামলায়।
