shono
Advertisement

বল কুড়োতে গিয়ে হাতে এল হিরে, মালিককে ফিরিয়ে কুর্নিশ আদায় কিশোরের

প্রলোভন অতিক্রম করে এই বয়সেই নজির গড়ল কিশোর।
Posted: 05:28 PM Aug 20, 2017Updated: 11:58 AM Aug 20, 2017

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক:  একবার মায়ের দেওয়া একটি পঞ্চাশ টাকার নোট রাস্তায় হারিয়ে গিয়েছিল। সেই দুঃখে সারা দিন খেতে পর্যন্ত পারেনি বছর পনেরোর ছেলেটা। তাই রাস্তা থেকে ৭০০ ক্যারেট হিরের একটি প্যাকটে কুড়িয়ে পাওয়ার সেই ঘটনার কথাই মনে পড়ে গিয়েছিল। তাই প্যাকেটটি যাঁর, তাঁকেই ফিরিয়ে দিল সে। সততার জন্য বিশাল উপাধ্যায় নামে বছর পনেরোর ওই কিশোরকে নগদ ৩০ হাজার টাকা আর্থিক পুরস্কার দিয়েছেন হিরের প্যাকেটটির মালিক মানসুখ সাভালিয়া। বিশালকে ১১ টাকা দিয়েছেন সুরাট ডায়মন্ড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বাবু গুজরাটিও।

Advertisement

[প্রকাশ্যে মদ্যপানের প্রতিবাদ, যুবককে কুপিয়ে খুন দুষ্কৃতীদের]

গুজরাটের সুরাট শহরের মাহিধাপুরা এলাকায় থাকে বিশাল। স্বাধীনতা দিবসের দিন পাড়াতেই বন্ধুদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলছিল সে। সেসময় স্থানীয় একটি পার্কিং লটে বল কুড়োতে গিয়ে একটি প্যাকেট নজরে পড়ে বিশালের। প্যাকেটে ৭০০ ক্যারেট হিরে ছিল। বিশাল উপাধ্যায় বলে, ‘আমি প্যাকেটটা নিয়ে বাড়ি ফিরে এসেছিলাম। কাউকে কিছু বলিনি। প্যাকেটটা বাড়িতেই লুকিয়ে রেখেছিলাম। ভেবেছিলাম, একদিন নিশ্চয়ই প্যাকেটের মালিকের খোঁজ পাব। তখন প্যাকেটটা তাঁকে ফিরিয়ে দেব। তিন দিন পরে, প্যাকেট খোঁজে ফের ওই এলাকায় আসেন প্যাকেটটির মালিক। আমি ওঁকে বলি, প্যাকেটটি আমার কাছে আছে।’

[গোরক্ষপুর ‘পিকনিক স্পট’ নয়, রাহুলকে কটাক্ষ যোগী আদিত্যনাথের]

বিশালদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা একেবারেই ভাল নয়। বাবা একটি বেসরকারি সংস্থার নিরাপত্তারক্ষী। মা বাড়িতে সেলাইয়ের কাজ করেন। বিশালের দাদা বেসরকারি সংস্থার সামান্য চাকুরে। তিনজনের রোজগারে কোনওমতে টেনেটুনে সংসারটা চলে যায়। তাই হিরের প্যাকেটটি ফেরত না দিলে তো সংসারে আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরতে পারত।  সেকথা কী একবার মনে হয়নি বিশালের? বছর পনেরোর কিশোর জানিয়েছে, ‘একবার মায়ের দেওয়া ৫০ টাকা রাস্তা হারিয়ে ফেলেছিলাম। সারাদিন খেতে পারিনি। হিরের প্যাকেটটা পাওয়ার পর বারবারই মনে হচ্ছিল, এই প্যাকেট যাঁর, তিনি কতটা কষ্ট পাচ্ছেন।’

[অ্যাম্বুল্যান্সের অভাবে মায়ের কোলেই মৃত্যু হল তিন বছরের শিশুর]

বিশালের সততায় আপ্লুত হিরের প্যাকেটটি মালিক মানসুখ সাভালিয়া। ওই কিশোরকে নগদ ৩০ হাজার টাকা পুরস্কার দিয়েছেন তিনি। মানসুখ সাভালিয়া বলেন, ‘হিরের প্যাকেটটি ফিরিয়ে দেওয়ার ছেলেটির কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ। প্যাকেটটা না পেলে, বাড়ি বিক্রি করে আমাকে ঋণ শোধ করতে হত। ও আমাকে এবং আমার পরিবারকে বাঁচিয়েছে।’  বিশাল উপাধ্যায়কে ১১ হাজার নগদ পুরস্কার দিয়েছে সুরাট ডায়মন্ড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বাবু গুজরাটিও।

[[ভারতের চেয়ে ঢের দুর্বল চিনা সেনা, জানেন এর পাঁচটি কারণ?]]

পড়াশোনা করে অনেক বড় হতে চায় বিশাল। বাবা-মাকে সুখী করতে চায়। তাই বিশাল ঠিক করেছে, সততার পুরস্কার হিসেবে যে টাকা সে পেয়েছে, তা পড়াশোনার জন্যই খরচ করবে।

[OMG! বাস্তবে ব্লু হোয়েল গেম বলে কিছুই নেই?]

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement
toolbarHome ই পেপার toolbarup মহানগর toolbarvideo শোনো toolbarshorts রোববার