পহেলগাঁও ধাঁচে কলমা না পড়ায় দুই যুবকের উপর হামলা হয়েছে মুম্বইয়ের মিরা রোডে। জানা গিয়েছে, আততায়ী জুবের আনসারি ইসলামিক স্টেট জঙ্গিগোষ্ঠীর ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন। ভয়ংকর এই ঘটনাকে সন্ত্রাসবাদী হামলা বলে আখ্যা দিলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিস। জানালেন, 'হিন্দুহত্যার ষড়যন্ত্র ছিল।'
এই ঘটনায় মঙ্গলবার বিবৃতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিস। সেখানে তিনি বলেন, ''এটি একক সন্ত্রাসী ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে। আততায়ীর বাড়ি থেকে বিছু বই ও আপত্তিকর সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। ও আমেরিকায় থাকতে চেয়েছিল কিন্তু সম্প্রতি সেখান থেকে চলে আসে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যাচ্ছে আততায়ী কট্টরপন্থী হয়ে উঠেছিল, এবং জেহাদের নামে হিন্দুদের হত্যার ছক কষেছিল। এই ঘটনা তারই পরিণতি।" পাশাপাশি এই ঘটনার নেপথ্যে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র রয়েছে কিনা তা জানতে বিস্তারিত তদন্ত হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
ভয়ংকর এই ঘটনাকে সন্ত্রাসবাদী হামলা বলে আখ্যা দিলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিস। জানালেন, 'হিন্দু হত্যার ষড়যন্ত্র ছিল।'
মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিস আরও বলেন, ''সন্ত্রাস দমন স্কোয়াড এবং জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) বর্তমানে এই মামলার তদন্ত শুরু করেছে এবং রাজ্য সরকারও এই সংস্থাগুলোকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে। তদন্ত শুধু অভিযুক্তদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এই গোটা চক্রের গতিবিধি খতিয়ে দেখা হবে। যদি এর নেপথ্যে কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্র থাকে তবে অবশ্যই তদন্তের মাধ্যমে তা প্রকাশ্যে আসবে।"
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ৪টে নাগাদ মিরা রোডে নির্মীয়মাণ একটি ভবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই যুবক রাজকুমার মিশ্র ও সুব্রত সেনের উপর হামলা চলে। জানা গিয়েছে, আততায়ী প্রথমে দু'জনের ধর্মীয় পরিচয় জানতে চান। এরপর জিজ্ঞেস করেন তাঁরা কলমা পড়তে জানেন কিনা। 'না' বলায়। জোর করে কলমা পাঠ করতে বলেন। নিরাপত্তারক্ষীরা রাজি না হওয়ায়, ছুরি বের করে তাদের উপর হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় রাজকুমার গুরুতর আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সামান্য চোট পেয়েছেন সুব্রত। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্ত জুবের আনসারিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্ত যুবক সন্ত্রাসী সংগঠন আইএসআইএস মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ ছিলেন। প্রায়শই ওই জঙ্গি সংগঠনের নানা ধরনের ভিডিও দেখতেন।
