নাসিকের টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসের (টিসিএস) ধর্মান্তরণ কাণ্ডে (TCS Conversion Case) অভিযোগের ফুলঝুরি। এবারে এক নির্যাতিতা জানালেন, কীভাবে জোরপূর্বক তাঁর নাম বদল করে ধর্মান্তরণের চেষ্টা হয়। এমনকী ওই মহিলাকে ইমরান নামের এক ব্যক্তির অধীনে কাজ করার জন্য মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ষড়যন্ত্রও হয়েছিল বলে অভিযোগ।
টিসিএস ধর্মান্তরণ কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত এইচআর বিভাগের কর্মী নিদা খান। নির্যাতিতা তরুণী অভিযোগ করেছেন, নিদা তাঁর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেন এবং ধর্ম পরিবর্তনের হুমকি দেন। পুলিশ জানিয়েছে, নির্যাতিতা তফসিলি জাতিভুক্ত হওয়ায় নতুন করে তফসিলি জাতি ও উপজাতির নির্যাতনের ধারা যুক্ত করা হয়েছে মামলায়। নির্যাতিতা আরও অভিযোগ করেছেন, ধর্মান্তরণের অভিসন্ধীতে নিদা তাঁকে বোরখা এবং ইসলামি ধর্মীয় বই দিয়েছিলেন। উপযাজক হয়ে অভিযোগকারীর মোবাইল ফোনে ইসলামিক অ্যাপও ইনস্টল করেন টিসিএসের 'এইচআর'। এর পরেই নাম পরিবর্তনের জন্য নির্যাতিতার শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসপত্রগুলি চান নিদা। নতুন নাম ঠিক করেন 'হানিয়া'। মালেগাওয়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে ধর্মান্তরণ নিয়ে কথাও বলেন অভিযুক্ত। যদিও শেষে মুহূর্তে পর্দা ফাঁস হয়ে যায়।
নাসিক টিসিএস সংক্রান্ত নয়টি যৌন নির্যাতন, হেনস্তার মামলার তদন্ত করছে মহারাষ্ট্র পুলিশের বিশেষ দল। যদিও এখনও পর্যন্ত পলাতক মূল অভিযুক্ত নিদা খান। তাঁর খোঁজে নিয়মতি অভিযান চালাচ্ছে তদন্তকারী দল। এর মধ্যেই গত শনিবার আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেন অভিযুক্তের আইনজীবী। দু’মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কথা জানিয়ে শারীরিক অসুস্থতার ভিত্তিতে জামিনের দাবি জানিয়েছিলেন তিনি। যদিও দায়রা আদালতের বিচারক এই আবেদনে সাড়া দেননি।
সূত্রের খবর, নিদা খান দাপ্তরিক ভাবে এইচআর প্রধান পদে ছিলেন না, তিনি টেলিকলার হিসাবেই সংস্থায় যোগ দেন। যদিও কার্যক্ষেত্রে এইচআর প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি একটি চক্রের হয়ে ‘কর্পোরেট জেহাদ’ পরিচালনা করতেন। সংস্থার মহিলা কর্মীদের জোর করে ধর্মান্তরণের চেষ্টা করতেন। এমনকী হিন্দু কর্মীদের আমিষ খাবার খেতে বাধ্য করতেন বলেও অভিযোগ। জবরদস্তি একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের জন্য চাপ দিতেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, নিদা খান বর্তমানে মুম্বইয়ে কোনও অজ্ঞাতবাসে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, যৌন নির্যাতন, মানসিক হেনস্তা এবং ধর্মান্তরণের অভিযোগ আইটি জায়েন্ট সংস্থার নাসিক কেন্দ্রের বেশ কিছু কর্মীর বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ এনেছেন টিসিএসের কমপক্ষে ন’জন মহিলা কর্মী। এই বিষয়ে মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা গিরিশ মহাজনের দাবি, “কোম্পানির চার-পাঁচজন মুসলিম কর্মী এবং কিছু কর্মকর্তা চাকরি, ভালো বেতনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেয়েদের প্রলুব্ধ করেছিল।” তিনি আরও দাবি করেন, মহিলাদের “নমাজ পড়তে ও রোজা রাখতে বাধ্য করা হয়েছিল।” গোট ঘটনায় মুখ পুড়েছে ভারত বিখ্যাত তথ্য-প্রযুক্তি সংস্থার। ইতিমধ্যে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে তদন্তে নেমেছে নাসিক পুলিশ।
এফআইআর করেছেন ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সি টিসিএস-এর মহিলা কর্মীরা। গত দুই থেকে তিন বছর ধরে তাঁদের উপর নির্যাতন চলেছে বলে অভিযোগ। গ্রেপ্তার হওয়া ছয় অভিযুক্তের মধ্যে টিসিএসের ইঞ্জিনিয়ার পদমর্যাদার আধিকারিকও রয়েছেন। আরও কয়েক জনের বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে পুলিশ। প্রয়োজনে তাঁদেরও গ্রেপ্তার করা হবে। ইতিমধ্যে শ্লীলতাহানি ও ধর্মান্তরণের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে টিসিএসের বিভিন্ন পদে থাকা আসিফ আনসারি, শফি শেখ, শাহরুখ কুরেশি, রাজা মেমন, তৌসিফ আত্তার এবং অশ্বিন চাইনানিকে।
