দাক্ষিণাত্য জয়ের স্বপ্নে কি ভঙ্গ দিল বিজেপি? অন্তত তামিলনাড়ুতে এনডিএ জোটের আসনরফার যে চিত্র উঠে আসছে, তাতে তেমনটাই মনে হচ্ছে। একসময় রাজ্যে প্রধান বিরোধী দল হিসাবে নিজেদের তুলে ধরার চেষ্টা করছিল গেরুয়া শিবির। সেই বিজেপি এবারের বিধানসভায় ১৫ শতাংশেরও কম আসনে লড়বে। এমনকী 'ক্ষয়িষ্ণু' কংগ্রেসের থেকেও কম আসনে লড়াই করার সম্ভাবনা গেরুয়া শিবিরের।
তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের আর মাত্র এক মাসের কিছু বেশি সময় বাকি। জোট গঠনের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে। বিশেষ করে এআইএডিএমকে নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে। মনে করা হচ্ছে আগামী সপ্তাহে পীযূষ গোয়েলের চেন্নাই সফরের সময় বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। জোট প্রক্রিয়া দ্রুত করতেই এআইএডিএমকে নেতা এডাপ্পাদি কে পালানিস্বামী দিল্লিতে অমিত শাহর সঙ্গে বৈঠক সেড়েছেন। সূত্রের খবর, জোটসঙ্গীদের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে যা ঠিক হয়েছে, তাতে AIADMK নিজেই ১৭০-১৮০ আসনে লড়বে। বিজেপিকে প্রায় ২৭টি আসন, পিএমকে-কে ১৭টি আসন এবং এএমএমকে-কে ৯টি আসন বরাদ্দ করা হতে পারে। অর্থাৎ ২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে ১২ শতাংশ আসনেও প্রার্থী থাকছে না বিজেপির। ছোট সহযোগী দলগুলোকে এআইএডিএমকে এবং বিজেপির জন্য নির্ধারিত আসনের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পালানিস্বামী বলেছেন, তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জোটের আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এখন আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ছোট দলগুলো এআইএডিএমকে-র 'দুই পাতার' প্রতীকে নাকি বিজেপির 'পদ্ম' প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। আগামী সপ্তাহেই তা চূড়ান্ত হবে।
আসমুদ্রহিমাচল সর্বত্র নিজেদের পদচিহ্ন রাখা। প্রায় এক দশক ধরে চেষ্টা করে আসছেন নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ। এই মুহূর্তে বিজেপি খাতায় কলমে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সদস্যযুক্ত রাজনৈতিক দল। প্রশ্নাতীতভাবেই দেশের সর্ববৃহৎ দল। কিন্তু প্রকৃত অর্থে 'সর্বভারতীয়' কি? এ প্রশ্নে এখনও খচখচানির কাঁটা বিঁধে রয়েছে গেরুয়া শিবিরের অন্দরেই। কারণ, একটি ব্যতীত দক্ষিণ ভারতের অধিকাংশ রাজ্যে এখনও প্রান্তিক শক্তি গেরুয়া শিবির। গত কয়েকটি নির্বাচনে তামিলনাড়ুতে নিজেদের ডিএমকের বিকল্প হিসাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছিল গেরুয়া শিবির। অথচ এখন দেখা যাচ্ছে রাজ্যের ৮৮ শতাংশ আসনে প্রার্থীই থাকছে না গেরুয়া শিবিরের।
