আইএসআইয়ের দীর্ঘদিনের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল, ডিরেক্টর পদকে গুরুত্বহীন করে, বোর্ড অফ গভর্নরসের হাতে প্রশাসনিক-অর্থনৈতিক সমস্ত দায়িত্ব তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সামনে রেখে পেশ হতে চলেছে বিতর্কিত ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউট বিল। লোকসভার সদস্যদের হাতে বুধবারই পৌঁছে গিয়েছে তার খসড়া। বাংলার নবজাগরণের অন্যতম ফলক, দেশের পরিসংখ্যানবিদ্যার পথিকৃতকে ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’-এর মানে উন্নীত করার নামে তার খোলনলচে বদলের এই প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে শোরগোল পড়তে চলেছে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক মহলে।
খসড়া বিলে বোর্ড অফ গভর্নরস গঠনের কথা বলা হয়েছে, তার হাতেই আইএসআই পরিচালনের মূল ক্ষমতা থাকবে। দেশের রাষ্ট্রপতি এই প্রতিষ্ঠানের ভিজিটর। তার নিচেই থাকবে বোর্ড অফ গভর্নরস, অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল, ম্যানেজমেন্ট কাউন্সিল, ডিরেক্টর প্রমুখ। ভিজিটর প্রতিষ্ঠানের কাজ দেখাশোনা করার জন্য এক বা একাধিক ব্যক্তিকে নিয়োগ করতে পারবেন। দরকার হলে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে কোনও প্রয়োজনে তদন্তও করাতে পারেন। তদন্তের শেষে যা সিদ্ধান্ত হবে তা মেনে নিতে হবে এই প্রতিষ্ঠানকে।
খসড়া বিল থেকে জানা যাচ্ছে, বোর্ড চাইলে নিজেদের অধীনে থাকা এই প্রতিষ্ঠানের কোনও সেন্টারকে যে কোনও জায়গায় সরাতে বা দুটি সেন্টারকে ‘মার্জ’ করাতে পারবে। প্রতিষ্ঠান নিজের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য আর নিজের স্থায়িত্ব চিরকাল ধরে রাখার জন্য ‘ফান্ড রেজ’ করার সবরকম চেষ্টা করবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে অর্থনৈতিক দিক থেকে স্বাবলম্বী হতে হবে, রোজকার প্রশাসনিক কাজ চালিয়ে নেওয়ার মতো ক্ষমতা তাদের থাকতে হবে। বোর্ডের অনুমোদন অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ম্যানেজমেন্ট কাউন্সিল থাকবে। এখানেই প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপকরা জানাচ্ছেন, মন্ত্রক থেকে একাধিক সদস্যকে এই বোর্ডে আনবে। অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যদের বদলে বোর্ডের সদস্যদের হাতেই থাকবে প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সব দায়িত্ব। ডিরেক্টর তার সব প্রাতিষ্ঠানিক, প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক কাজের জন্য বোর্ডের কাছে জবাবদিহি করবে।
অধ্যাপক থেকে পড়ুয়াদের দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিষ্ঠানের ‘ফি’ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ছিল। এতদিন এই প্রতিষ্ঠানে পড়তে এলে শুধু মেধার বিচার করা হত। ‘ফি’ দিতে হত না। প্রতিষ্ঠানকে স্বাবলম্বী করার জন্য এবার ছাত্রছাত্রীদের থেকে পড়াশোনা বাবদ ফি নেওয়া হবে বলে বিলে জানানো হয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সম্পত্তি বা অন্য কোনও সেন্টার সংক্রান্ত কোনও বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জরুরি প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন দরকার হবে।
