সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলা অন্যতম ইস্যু এখন অনুপ্রবেশ। বিহার ভোটের আগে খসড়া তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন ঘিরে অনুপ্রবেশ নিয়ে আলোচনার পারদ আরও চড়ছে। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার, স্বাধীনতা দিবসে জাতির উদ্দেশে ভাষণে অনুপ্রবেশ নিয়ে বড় ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর দাবি, অনুপ্রবেশের জন্য জনবিন্যাস পালটে যাচ্ছে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলির, ভারতবাসীর মুখের গ্রাস কেড়ে নিচ্ছে অনুপ্রবেশকারীরা। তাই ‘দেশ বাঁচাতে’ এবার ‘ভিশন ডেমোগ্রাফি’ মিশনের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। আর তাঁর এহেন মন্তব্যেরই তীব্র সমালোচনা করল বাংলার শাসকদল তৃণমূল। সাংসদ মহুয়া মৈত্র, সাগরিকা ঘোষ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের দাবি, অনুপ্রবেশের জন্য দায়ী বিএসএফ, যা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীন। তাহলে অনুপ্রবেশের দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পদত্যাগ করুন।
এদিন লালকেল্লায় প্রধানমন্ত্রী মোদির ভাষণ শুনতে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ কেন্দ্রের বিভিন্ন মন্ত্রী, সাংসদরা। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র, সাগরিকা ঘোষদের দাবি, অনুপ্রবেশ নিয়ে মোদির মন্তব্য শুনে হাততালি দিতে দেখা যায় শাহকে। তাতেই তাঁদের প্রশ্ন, হাততালি কেন? বরং অনুপ্রবেশকারীদের আটকে সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে না পারার দায় নিয়ে ইস্তফা দেওয়া উচিত শাহের। এনিয়ে সাগরিকা, মহুয়া, ঋতব্রতরা ভিডিও বার্তা দিয়েছেন।
তাঁদের সকলের একই বক্তব্য, ''আজ লালকেল্লা থেকে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদি বললেন যে অনুপ্রবেশকারীদের জন্য দেশের ডেমোগ্রাফি বা জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে। তারা নাকি দেশের ভিতরে ঢুকে জমি হাতিয়ে নিচ্ছে, মহিলাদের দিকে নজর দিচ্ছে। তো আমাদের প্রশ্ন হল, সীমান্ত পাহারা দেয় কে? বিএসএফ। বিএসএফ তো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাই তাঁরই অনুপ্রবেশের দায় নিয়ে পদত্যাগ করা উচিত। উনি বসে বসে হাততালি দিচ্ছেন কেন?''
আসলে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বরাবর তৃণমূলের অস্ত্র এটাই। যতবার কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন শাসকদল অভিযোগ তোলে, বাংলার সীমান্ত দিয়ে অবাধে অনুপ্রবেশ ঘটে চলেছে এবং তাতে শাসক শিবিরের পরোক্ষ মদত রয়েছে, ততবারই সীমান্ত সুরক্ষার দায় অমিত শাহর মন্ত্রকের উপর চাপিয়েছে তৃণমূল। এবারও সেই একই সুরে মোদি-শাহর তীব্র সমালোচনা করলেন তৃণমূল সাংসদরা।
