তৃণমূলের 'বিদ্রোহী' ২০ জন সাংসদদের মধ্য়ে তিনিও রয়েছেন। মঙ্গলবার লোকসভার সচিব উৎপলকুমার সিংহের সঙ্গে দেখা করে নিজের এই অবস্থান স্পষ্ট করলেন হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব ও বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের সঙ্গেও দেখা করেন তিনি। লোকসভার সচিবালয় থেকে বেরিয়ে তিনি জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের সঙ্গে তাঁর পুরনো সম্পর্ক। তাঁকে সম্মান করেন তিনি। কিন্তু একথা সত্যি যে গত ১৫ বছর ধরে রাজ্যে উন্নয়ন থমকে ছিল। নিজের নির্বাচনী ক্ষেত্রে জনগণ ও তাঁদের উন্নয়নের স্বার্থ তাঁকে দলের সংখ্যাগরিষ্ট সাংসদদের সঙ্গে 'হাত মেলাতে' হয়েছে। বাংলার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীরও ভূঁয়সী প্রশংসা করেন রচনা (Rachana Banerjee)।
তিনি জানান, রাজ্যে ১-২ মাসের মধ্যে উন্নয়নের গতি ফিরে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে এই কাজ হচ্ছে। রাজ্যবাসী এরকম উন্নয়ন গত কয়েকবছর ধরে দেখেননি। শুভেন্দু দেখিয়ে দিয়েছেন কীভাবে উন্নয়নের কাজ করতে হয়। রাজ্যে উন্নয়নের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। তাঁর কথায়, "আমি অভিনেত্রী বলে আমাকে জনগণ ভোট দেয়নি। আমি যাতে তাঁদের জন্য কাজ করি সেই কারণে ভোট দিয়েছে। নির্বাচনী ক্ষেত্রে ভালো কাজ করতে হলে কেন্দ্রের সহায়তা খুব প্রয়োজন। এতদিন আমাদের রাজ্যে উন্নয়ন থমকে ছিল। উন্নয়ন কীভাবে করতে হয় তা শুভেন্দু অধিকারী দেখিয়ে দিয়েছেন।" মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গে রচনা জানান, "রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর অনেক পুরনো সম্পর্ক। এই সম্পর্ক অটুট থাকবে। ওঁর প্রতি সম্মান অটুট থাকবে। তৃণমূল মানেই দিদি। এটা ঠিক। কিন্তু দিদিকে সম্মান জানিয়েই বলছি, আমাদের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছিল। কাজ করতে পারছিলাম না।"
উল্লেখ্য, গত রবিবার সন্ধ্যায় তৃণমূলের 'বিদ্রোহী' সাংসদরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে জানান, তাঁরা ত্রিপুরার রাজনৈতিক দল এনসিপিআইয়ের সঙ্গে মিশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দিল্লিতে স্পিকারের বাসভবনে সেদিন রচনা উপস্থিত না থাকলেও তিনিও ওই ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের তালিকাতেই রয়েছেন। একথা জানাতেই আজ লোকসভার সচিবালয়ে যান রচনা।
