তীরে এসেও তরী ডুবল! লোকসভায় ধাক্কা খেল মোদি সরকার। শুরু থেকেই বিরোধিতা ছিল, শেষেও সাফল্যের গণ্ডি ছুঁতে পারল না কেন্দ্রের আনা মহিলা সংরক্ষণ বিল। শুক্রবার সংসদে ভোটাভুটি চলাকালীন বিলটির পক্ষে ২৯৮টি ভোট পড়লেও বিপক্ষে পড়ে ২৩০ টি। মোট ৫২৮ জন সাংসদ ভোটাভুটিতে যোগ দেন। বিল পাশে প্রয়োজন ছিল ৩৫৩ টি ভোট। যা পায়নি সরকার পক্ষ। দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না মেলায় শেষ পর্যন্ত পাশ করানো গেল না বিলটি।
আসন বাড়িয়ে মহিলা সংরক্ষণে সায় দেয়নি লোকসভা। দু'দিন লাগাতার সংসদের নিম্ন কক্ষে চলেছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ। মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার অভিযোগ এনে সংসদে সরব হয়েছিলেন বিরোধীরা। পালটা বিরোধীদের 'মহিলা বিদ্বেষী' বলে দাগিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রের শাসক পক্ষ। শুক্রবার সন্ধের ভোটাভুটিতে মহিলা সংরক্ষণ বিল 'ফেল' করতেই মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনায় আসরে নেমেছে 'ইন্ডিয়া' জোটের অন্যতম শরিক তৃণমূল।
তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন টুইটে লেখেন, “মোদি-শাহের শেষের শুরু।” এই বিলের বিরোধিতা করে মহুয়া মৈত্রর টুইট, “বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের কাছে এই অসাংবিধানিক বিল পাশের প্রয়াস ভেস্তে গেল।”
সংসদে পেশ করা মহিলা সংরক্ষণ বিল ভোটাভুটিতে হার্ডল পার না করতেই তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন টুইটে লেখেন, "মোদি-শাহের শেষের শুরু।" এই বিলের বিরোধিতা করে মহুয়া মৈত্রর টুইট, "বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের কাছে এই অসাংবিধানিক বিল পাশের প্রয়াস ভেস্তে গেল।" মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে আলোচনার সময় লোকসভায় বিজেপিকে একহাত নেন বীরভূমের তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়।শতাব্দী রায়ের বক্তব্য, "মহিলাদের সামনে রেখে নির্বাচন জয়ের ফর্মুলা করা হচ্ছে। কেন ৫৬ ইঞ্চি ছাতির পুরুষকে মহিলাদের সামনে রেখে লড়াই করতে হচ্ছে? নিজের দমে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।"
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে 'নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম' বিল পাশ হয়েছিল সংসদে। বিলে উল্লেখিত ছিল, মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। সেখানে আরও বলা হয়েছিল, জনগণনার পরে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। তারপর ওই আসনের ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখা হ মহিলাদের জন্য। কিন্তু এখন কেন্দ্র আর জনগণনার অপেক্ষা করছে না। মোদি সরকার চাইছে, ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। সেই পুনর্বিন্যাসের ভিত্তিতেই মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষিত করা হবে। তারই বিরোধিতায় একজোট হয় ইন্ডিয়া শিবির। এদিন লোকসভার রায় মহিলা সংরক্ষণ বিলের পক্ষে না হওয়ায় নিজেদের নৈতিক জয় দেখছে বিরোধীরা।
