মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'আমেরিকা ফার্স্ট' নিয়ে বহুদিন ধরেই চর্চা চলছে। মার্কিন বিদেশ নীতি কিংবা দেশী নীতি, সবক্ষেত্রেই ওই নীতিকে মাথায় রেখেই এগোতে চান তিনি। কিন্তু 'আমেরিকা ফার্স্ট' মানে মোটেই 'আমেরিকা অ্যালোন' নয়। এমনই মন্তব্য মার্কিন বিদেশ সহ-সচিব ক্রিস্টোফার লান্ডাউয়ের। সেই সঙ্গেই তাঁর দাবি, দুই দশক আগে চিনের ক্ষেত্রে যে ভুল হোয়াইট হাউস করেছিল, ভারতের ক্ষেত্রে তারা তা করতে নারাজ।
'রাইসিনা ডায়লগ'-এ উপস্থিত হয়ে ক্রিস্টোফারকে বলতে শোনা গিয়েছে, ''ভারতের বোঝা উচিত যে আমরা ২০ বছর আগে চিনের সঙ্গে যে ভুল করেছিলাম, ভারতের সঙ্গে সেই একই ভুল করব না। আমরা এটা স্পষ্ট করে দিতে চাই, আমরা যেটা করব সেটা আমাদের জনগণের প্রতি যেন ন্যায্য হয় তা নিশ্চিত করে। কারণ, শেষ পর্যন্ত, আমাদের নিজেদের জনগণের কাছেই জবাবদিহি করতে হবে। ঠিক যেমন ভারত সরকারকে তার জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হয়।'' তবে সেই সঙ্গেই তিনি আশ্বস্ত করেছেন, 'আমেরিকা প্রথম' মানে 'আমেরিকা একলা' নীতি নয়। অর্থাৎ অন্য দেশগুলির সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমেই আমেরিকা তার লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে। তাঁর কথায়, ''অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চান আমেরিকা আবার মহান হোক। পাশাপাশি তাঁর আশা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও অন্য রাষ্ট্রনায়করাও চাইবেন তাঁদের দেশকে মহান করে তুলতে।''
প্রসঙ্গত, দীর্ঘ টালবাহানা এবং প্রায় ছ’বারের বৈঠকের পরে অবশেষে চূড়ান্ত হয়েছে ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি (India-US trade deal)। ভারতের উপর শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করেছে আমেরিকা। বাণিজ্যচুক্তি ঘিরে দীর্ঘ সময় ধরে টানাপোড়েন চলছিল দুই দেশের। গত বছর ২০২৫ সালে পরপর দু’বার ভারতের পণ্যের উপর শুল্ক আরোপের কথা বলেছিল আমেরিকা। ভেনেজুয়েলার খনিজ তেল কেনার বেজায় চটেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্স। সেজন্য ভারত-সহ একাধিক দেশের পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়েছিল। পরে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে ফের চাপ বাড়িয়েছিল আমেরিকা। আরও বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্কও চাপানো হয়। ফলে আমেরিকায় ভারতীয় পণ্যের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।
