মাসুদ আহমেদ, শ্রীনগর: জম্মু ও কাশ্মীরে (Jammu & Kashmir) খতম আল বদর জঙ্গিগোষ্ঠীর দুই সন্ত্রাসবাদী। উপত্যকায় একাধিক পরিযায়ী শ্রমিকের হত্যায় হাত ছিল নিহত জেহাদিদের। বৃহস্পতিবার এমনটাই জানিয়েছেন কাশ্মীর পুলিশের আইজিপি বিজয় কুমার।
[আরও পড়ুন: মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কম সুদে ঋণ দেওয়ার টোপ! চিনা সংস্থার কোটি কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করল ED]
পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার মিতরিগাম এলাকায় জঙ্গিদের গোপন ডেরার সন্ধান পায় নিরাপত্তাবাহিনী। তারপরই দ্রুত ছকে ফেলা হয় অভিযানের নকশা। গভীর রাতে জঙ্গিদের ঘাঁটিতে হানা দেয় পুলিশ, আধাসেনা ও ফৌজের একটি যৌথবাহিনী। নিরাপত্তারক্ষীদের উপস্থিতি জানতে পেরেই গুলি চালাতে শুরু করে সন্ত্রাসবাদীরা। পালটা হামলা চালায় বাহিনী। প্রায় রাতভর চলা এনকাউন্টার শেষে দুই জঙ্গি নিহত হয়। আইজিপি বিজয় কুমার জানিয়েছেন নিহত জঙ্গিরা পাক মদতপুষ্ট জেহাদি সংগঠন আল বদরের সদস্য। তাদের নাম–আইজাজ হাফিজ ও শাহিদ আয়ুব। ঘটনাস্থলে থেকে দু’টি একে-৪৭ রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছে।
সম্প্রতি কাশ্মীর উপত্যকায় ফের সক্রিয় হয়েছে আল বদর। বিশেষ করে আফগানিস্তানে তালিবান ক্ষমতায় আসার পর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটিতে জেহাদি কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এবার পরিযায়ী শ্রমিকদের নিশানা করছে জঙ্গিরা। তবে সেনাবাহিনীও লাগাতার অভিযান চালিয়ে নাশকতার ছক ভেস্তে দিচ্ছে। ২০২১ সালের মার্চ মাসে জম্মু ও কাশ্মীরে নিকেশ হয় ‘আল বদর’-এর প্রধান গানি খোয়াজা। সে কাশ্মীরের হানদওয়ারার বাসিন্দা ছিল।
২০১৮ সালের আগস্ট মাসে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে একটি র্যালির আয়োজন করা হয়েছিল আল বদর জঙ্গি সংগঠনের তরফে৷ সেখান থেকেই জম্মু ও কাশ্মীরে সংগঠন গড়ে তোলার ডাক দেওয়া হয়। এই সন্ত্রাসবাদী সংগঠনই আগামীতে কাশ্মীরের কন্ঠ হয়ে উঠবে বলে দাবি করা হয়৷ সেসময় ভারতীয় গোয়েন্দারা জানিয়েছিলেন, কাশ্মীরে সংগঠন তৈরি করতে আল বদরকে আর্থিক সাহায্য করছে লস্কর-ই-তইবা ও জইশ-ই-মহম্মদ৷ এর জন্য নতুন এই জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের বিভিন্ন ক্যাম্পে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়।
